যশোরে বিভিন্ন থানায় গিয়ে মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সদস্যদের। পাচারসহ বিভিন্ন মামলার অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে না। এ কারণে ভুক্তভোগীরা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পিবিআই বা সিআইডিকে দায়িত্ব দিচ্ছেন। এজন্য থানায় মামলার সংখ্যা কম হলেও আদালতে বাড়ছে। থানার ওসিরা মামলার সংখ্যা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্য ভুক্তভোগীদের সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। মূলত থানায় গিয়ে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।
গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাসিক সভায় এসব অভিযোগ করেন সদস্যরা। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবরাউল হাসান মজুমদার।
সভায় বলা হয়, শহরে কিশোর অপরাধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা হত্যাসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যে করছে না। তাদের হাতে থাকে চাকু। চলতি মাসে চারটি হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে কিশোর অপরাধীরা। পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলেও আদালত বয়স বিবেচনায় তাদের ছেড়ে দিচ্ছেন।
শহরের মণিহার এলাকা যানজটমুক্ত করতে হলে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করেন কমিটির সদস্যরা। মণিহারসহ যশোর-নড়াইল ও যশোর-খুলনা সড়কের বকচর এলাকা পর্যন্ত রাস্তায় বিভিন্ন কোম্পানির বাস দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের কারণে ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ট্রাফিক বিভাগ যেন বাস মালিকদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। ফল ব্যবসায়ীরা ভ্যান নিয়ে সড়কের ওপর বসছে। অভিযানে গেলে তারা সটকে পড়ছে। প্রশাসন চলে গেলে আবারো সড়কে এসে ফল বিক্রি করছে। একই সঙ্গে মোটরচালিত রিকশা শহরের যানজট বাড়াচ্ছে। এসব মোটর বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে আর কেউ রিকশায় মোটর লাগাতে পারবে না।
সভায় বলা হয়, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেছেন। ওই শিক্ষক ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডিও করতে পারছেন না। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত করে বিচার দাবি করছি। জনপ্রতিনিধিরা ডিও লেটার দিয়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে তাদের পছন্দের লোকজনকে সভাপতি বানাচ্ছেন। তারাই সব অনিয়মে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভাবা উচিত।
সভায় কমিটির সদস্যরা বলেন, ‘ভৈরব নদের পাশ দিয়ে নতুন করে একটি হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে। ভৈরব হোটেল নামে ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে নদের জায়গায় ব্যবসা করছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।’
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন বলেন, ‘আমরা কিশোর অপরাধীদের আটক এবং তাদের কাছ থেকে চাকু উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি। এরই মধ্যে সব হত্যার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শহরের মধ্য চুরি ও মাদকের কারবার কমেছে। অপহরণের কিছু মামলা পেন্ডিং রয়ে গেছে। অনেক সময় থানার ওসিরা অভিযোগটি সন্দেহ মনে করলে তিনি তদন্তের উদ্যোগ নেন। এ কারণে সব অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড হয় না।’
সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেস মজুমদার, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক রাসেল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ দাস, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইসহক, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু, প্রেস ক্লাব যশোরে সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।










