এলডিসি পরবর্তী সময়ের জন্য চামড়া শিল্পের রফতানি বাড়াতে টেকসই কৌশল নির্ধারণে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (ডিসিসিআই) এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘চামড়া শিল্পের কৌশল নির্ধারণ: এলডিসি পরবর্তী টেকসই রপ্তানি’ শীর্ষক এই সেমিনারে চামড়া শিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় নানা উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, চামড়া শিল্পের পরিবেশগত উন্নয়ন, সনদ প্রাপ্তির সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধিতে শিল্প মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সাভার ট্যানারি এস্টেটে প্রশিক্ষণ ও ডিজাইন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এই খাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিল্প মন্ত্রণালয় সহায়ক নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি বলেও তিনি জানান।
ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চামড়া খাতের রফতানি বাড়াতে প্রয়োজন পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ব্যবহার, নতুন পণ্যের উদ্ভাবন, ব্যাংকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্ষমতা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি চামড়া শিল্পের বাজার বৈচিত্র্য, কর কাঠামো সহজীকরণ ও শিল্পের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাভারে স্থাপিত সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (সিইটিপি) বর্তমান সক্ষমতা ১৪ হাজার কিউবিক মিটার। তবে কোরবানির মৌসুমে ৩২ থেকে ৩৫ হাজার কিউবিক মিটার চাহিদা থাকে। এই সক্ষমতা ২০-২৫ হাজার কিউবিক মিটারে উন্নীত করতে একটি কারিগরি দল কাজ করছে। এরই মধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো ৮-১০টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম ও বে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান। এছাড়া দেশের বিভিন্ন চামড়া শিল্প উদ্যোক্তারাও আলোচনায় অংশ নেন।
সেমিনারে বক্তারা চামড়া শিল্পের টেকসই উন্নয়নে নীতি সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী বাণিজ্য কাঠামোতে চামড়া খাতের রফতানি সক্ষমতা ধরে রাখতে পরিকল্পিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।










