রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী, তার পরিবার এবং মামলার সাক্ষীদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, জোটটি ভুক্তভোগী, তার পরিবার এবং মামলার সাক্ষীদেরকে সার্বিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়। পাশাপাশি, আসামিপক্ষ কর্তৃক হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগসমূহ সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিও জানায়া তারা।
ভুক্তভোগীর প্রতি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামির এ ধরণের হুমকি জামিনের শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথে মারাত্মক অন্তরায় উল্লেখ করে তারা বলে, ভবিষ্যতে এ ধরণের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে জামিনে মুক্তির পর ভুক্তভোগীর প্রতি আসামির আচরণবিধির নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দরকার।
উল্লেখ্য, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর ৩২খ(১) ধারায় সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে বা স্বীয় বিবেচনায় তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার অভিযোগকারী, ভুক্তভোগী অথবা সাক্ষীকে নিরাপত্তা বা সুরক্ষা প্রদানে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর মাধ্যমিক পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে নাটোরের গুরুদাসপুরের মরিয়ম মেমোরিয়াল গার্লস’ হাইস্কুলের ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একই হাইস্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক অপহরণ করে একাধিকবার ধর্ষণ করে। উক্ত ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আসামিকে ধর্ষণ অপরাধের জন্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপহরণের দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
পরবর্তীতে, প্রায় ১১ মাস কারাবাসের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে আসামিপক্ষের লোকজন- সাক্ষ্য না দেয়ার জন্যে এবং মামলাটি চালিয়ে না যাওয়ার জন্যে ভুক্তভোগী, তার পরিবার এবং মামলার সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছে।










