স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে স্থানীয়ভাবে বিএনপি সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’
দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছে পরিচিত হতে পারে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না বলেও জানান তিনি।
গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, ‘দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী রাখে।’
তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, এটি যেমন সত্য, তেমনি বাস্তবতা হলো কোনো এলাকায় একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেটিও ভোটারদের অজানা থাকবে না।’
এক্ষেত্রে বিএনপি কোনো বিশেষ সুবিধা বা আলাদা অবস্থান নেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা হবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা। আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা যেকোনো বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো প্রার্থী যাতে নিরাপদে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের বার্তা (মেসেজ) খুবই পরিষ্কার। যেহেতু এটি দলীয় নির্বাচন নয়, তাই আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা সব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায়। এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।’










