দেশে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ দুই রোগে আরো ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে ছয় ও হামের উপসর্গে চারজন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে খুলনা বিভাগে আছে দুজন। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরে মারা গেছে ১৪৮ জন। এছাড়া আগস্টে ৪৩, জুলাইয়ে ৩৬, জুনে ১৩ ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগী মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরো জানায়, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৯৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭১৯ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৪৩ জন, খুলনায় ২৪৮, রাজশাহীতে ২১১, বরিশালে ২১২, ময়মনসিংহে ১০২ ও রংপুর বিভাগে ৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ৬১০ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৩ হাজার ৮৯০ জন। আর ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৮৮২ জন।
অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার সাতজন মারা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১২৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫২০ জনে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২২১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন
সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ জনে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ রোগী ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৩ জন।
এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ৪৫২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৭৮ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮০, চট্টগ্রামে ৮৫, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪৪ ও রংপুর বিভাগে ১৫ জন মারা গেছে।
উপসর্গ-১,৯১,৭৩১
হাসপাতালে ভর্তি- ১,৬৯,৮০০
আক্রান্ত- ২১,৫২০
মৃত্যু- ১০১
উপসর্গে মৃত্যু- ১,০০৭
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর










