ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা, জাল টাকা প্রতিরোধ এবং সুষ্ঠু বেচাকেনা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, হাটে জাল টাকা শনাক্তের মেশিন বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে বিক্রেতারা নিরাপদে টাকা জমা রাখতে পারেন।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর দিয়াবাড়ী পশুর হাট পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এ বছর দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। দেশের কৃষক ও খামারিরা যে পরিমাণ গরু, ছাগল ও মহিষ উৎপাদন করেছেন, তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট বলে জানান তিনি।
পশু হারিয়ে যাওয়া বা চুরির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বড় হাটগুলোয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। হারিয়ে যাওয়া পশু উদ্ধারে মাইকিং, তদারকি ও তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হারানো পশু দ্রুত উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ভারতীয় বা সীমান্তপথে আসা গবাদিপশুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে কোরবানির আগেই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পশুর দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে এখনো পশুর গঠন, স্বাস্থ্য, আকৃতি ও বাহ্যিক মান দেখে দরদামের মাধ্যমে কেনাবেচা হয়। এ কারণে একই ধরনের পশুর দাম ভিন্ন হতে পারে। ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে ওজনভিত্তিক পদ্ধতিতে পশু বিক্রির সংস্কৃতি চালু হলে মূল্য নির্ধারণ আরো স্বচ্ছ হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা থাকায় কৃত্রিমভাবে কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করা কঠিন। চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতেই পশুর দাম নির্ধারিত হয়।
তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বেচাকেনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। ঈদ পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিম, ডা. মো. সফিকুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









