যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর ও বাগডাঙ্গা গ্রামে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করছেন কৃষক। প্রায় ৪০ বছর আগে শুরু হওয়া আবাদের পরিসর এখন বেড়েছে। আগস্টের মাঝামাঝি শুরু হয় চারা বিক্রি। চলে মার্চ পর্যন্ত। কৃষি বিভাগ বলছে, প্রতি মৌসুমে গ্রাম দুটিতে ৪০ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ বিভিন্ন জাতের ১২ কোটি সবজির চারা উৎপাদন হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর ও বাগডাঙ্গা গ্রামের দেড় শতাধিক কৃষক বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করেন। মৌসুমে ৪০ বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে প্রায় ১২ কোটি চারা উৎপাদন হয়। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন সবজির বীজ বপন শুরু হয়। প্রায় দেড় মাস পর চারা বিক্রির উপযোগী হয়। প্রথম ধাপে প্রতি হাজার চারা দেড় থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। পরে ধাপে ধাপে চারার দাম কমতে থাকে। প্রতিটি বীজতলায় চার-পাঁচটি ধাপে ১২ কোটি চারা বিক্রি করতে পারেন কৃষক। সে হিসাবে এখানে প্রায় ১৫ কোটি টাকার চারা বেচাকেনা হয়।
আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম দেড় বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপির চারা উৎপাদন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঝিকরগাছা, গদখালী, নাভারণ, চৌগাছা, মণিরামপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, নড়াইলের লোহাগড়া ও সাতক্ষীরা জেলার কৃষক এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা চারা কিনে নিয়ে যান।’
একই গ্রামের আরশাদ আলী মোড়ল বলেন, ‘৪০ বছর আগে আমিই প্রথম এ গ্রামে সবজির চারা উৎপাদন শুরু করেছিলাম। ভালো লাভ হওয়ায় অন্য চাষীরাও চারা উৎপাদন শুরু করেন। এখন অনেকেই ভালো চারা উৎপাদন করেন; ভালো চারা পায় বলে দূরদূরান্ত থেকে চাষী ও পাইকাররা আমাদের এখানে চারা কিনতে আসেন।’
কৃষকেরা জানিয়েছেন, সবজির চারা উৎপাদন করে প্রতি ছয় মাসে কৃষকরা লাভ করতে পারেন ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। তবে বিভিন্ন কোম্পানির মানহীন বীজের কারণে কৃষকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ডিলাররা নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করে তাদের ঠকাচ্ছেন। মৌসুমের শুরু থেকে আশানুরূপ হারে অঙ্কুরোদগম হয়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, ‘মানসম্মত চারা উৎপাদনে প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। একই সঙ্গে বাইরে চারা বিক্রির যে সংযোগ, সেটাও কৃষি বিভাগ করছে। এ দুটি গ্রাম থেকে আট মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার চারা বেচাকেনা হয়। তবে মানহীন বীজের সরবরাহের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। ভালো মানের বীজ পাওয়ার জন্য ভালো কোম্পানির সঙ্গে কৃষকদের সংযোগ তৈরি করে দিই আমরা।’










