দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল শেষ হওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে কিউইদের ১৫০ রানের বড় ব্যবধানে হারায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। স্পিনার তাইজুল ইসলাম ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে অন্যতম সেরা টেস্ট জয় উপহার দেন। 

তিন হার ও তিন ড্রর পর এই প্রথম নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে জয় এল। কিউইদের বিপক্ষে ১৮ টেস্টে এটা টাইগারদের দ্বিতীয় জয়। গত ২৩ বছরে ১৩৯ টেস্ট খেলে ১৯টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। জয়ের সংখ্যার বিচারে এটি নগণ্য হলেও প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড বলেই জয়টি নিয়ে গর্ব করতে পারে টাইগাররা। গত বছর মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে কিউইদের হারিয়ে ইতিহাস গড়ে মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। সেটাই ছিল কিউইদের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম জয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ঘরের মাঠেও কিউইদের হারাল টাইগাররা। 

শুক্রবার চতুর্থ দিন ১০২ রানে নিউজিল্যান্ডের ৭ উইকেট তুলে নিয়ে সিলেটে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ। নৈসর্গিক সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল পঞ্চম ও শেষ দিন জয়োৎসব করতে টাইগারদের নিতে হতো বাকি ৩টি উইকেট। প্রথম সেশনেই তারা সেটি করতে সমর্থ হয়।

৩৩২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে কিউইরা ৭ উইকেটে ১১৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিন মাঠ ছাড়ে। ড্যারিল মিচেল ৪৪ ও ইস সোধি ৭ রানে অপরাজিত থেকে গতকাল ফের ব্যাটিংয়ে নামেন। জিততে তাদের প্রয়োজন ছিল আরো ২১৯ রান। কিন্তু অতিথিরা গুটিয়ে গেল ১৮১ রানে। দিনের দশম ওভারে ড্যারিল মিচেলকে (৫৮) বোল্ড করে দলের জয়ের পথটা মসৃণ করেন নাঈম হাসান। শেষ দিকে অধিনায়ক টিম সাউদি (৩৪) ও সোধি (২২) লড়াই করলেও তাইজুল দুজনকেই সাজঘরে ফিরিয়ে দলকে জয়ের আনন্দে ভাসিয়েছেন। সব মিলিয়ে শেষ দিন ২২.১ ওভার লড়াই করে বোর্ডে ৬৮ রান তোলার পর হার মানে কিউইরা। জয় নিশ্চিত করতে তাইজুলদের লেগেছে ৮৬ মিনিট।  

বাংলাদেশের জয়ের নায়ক অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৭৫ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। সব মিলিয়ে ম্যাচে তার শিকার ১০ উইকেট। এ নিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে দুবার ম্যাচে ১০ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখালেন। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ১১ উইকেট শিকার করেছিলেন তাইজুল। এছাড়া বাংলাদেশের আর যে দুজন ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন তারা হলেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। 

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেকে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। তিনি করেন ১০৫ রান। তবে ১৮৪ রানের বিনিময়ে ১০ উইকেট শিকার করে তাইজুলই হয়েছেন ম্যাচসেরা। 

হারের পর বাংলাদেশের প্রশংসা করে কিউই দলনায়ক টিম সাউদি বলেন, ‘হার কখনই কাম্য নয়, কিন্তু বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতেই হবে। আমি মনে করি, আপনাকে আগে দেখতে হবে বাংলাদেশের বোলাররা কীভাবে আমাদের লম্বা সময় ধরে চাপে রেখেছে। আমরাও করেছি, তবে সেটি লম্বা সময় ধরে নয়। আমি মনে করি, শান্ত একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছে এবং সত্যিই ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়োপযোগী ইনিংস খেলেছে। আমাদের অনেক কিছু দেখার আছে। এটি থেকে শিক্ষা নিয়ে দল হিসেবে আমাদের আরো উন্নতি করতে হবে।’

ক্রিকেট নিউজিল্যান্ড টুইট (এক্স) করেছে, দারুণ খেলেছে বিসিবি টাইগার্স। দেখা হবে ঢাকায়।

এটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (২০২৩-২৫) নতুন চক্রে দুই দলেরই প্রথম ম্যাচ। গতকালের এ জয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে গেল বাংলাদেশ। আগের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও একমাত্র জয় বাংলাদেশ পেয়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুইতে। দুই ম্যাচে দুই জয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে পাকিস্তান।

৬ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে। সিলেট টেস্ট জেতায় ১-০তে এগিয়ে থেকে ঢাকা টেস্টে খেলতে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। স্বাগতিকদের আর সিরিজ হারের সুযোগ নেই। 

সিলেটে উৎসব চললেও টাইগাররা জানে, ঢাকায় জেতা তাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল সংবাদমাধ্যমকে ম্যাচসেরা তাইজুল বলেছেন, ‘এমন বড় জয়ের পর কিছুটা উদযাপন তো হবেই। তবে হ্যাঁ, এটাই কিন্তু সিরিজের শেষ না। ঢাকায়ও আমাদের ভালো করতে হবে, এরপর দেখব কী হয়।’ 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৩১০ ও ৩৩৮। নিউজিল্যান্ড: ৩১৭ ও ১৮১ (মিচেল ৫৮, সাউদি ৩৪; তাইজুল ৬/৭৫, নাঈম ২/৪০)। ফল: বাংলাদেশ ১৫০ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ)। সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে।