গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বিভাগীয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। তবে একটি ভালো বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়, এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। অর্থ বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মধ্যে আমলাতন্ত্র নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তন করতে হবে। গত চার মাসের অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।’ প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে এসে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মপদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
আমির খসরু বলেন, ‘বিভাগীয় সভাগুলোকে একমুখী না রেখে কর্মকর্তাদের মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতামত দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’ মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী উপায়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কাজের পরিবেশকে একটি পরিবারের মতো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু অভিযোগ নয়, সমস্যার সমাধানে নতুন ধারণা ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’ অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ মতামত পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারণ আরো কার্যকর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অর্থ বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরে জাতীয় স্বার্থে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।
এদিকে সচিবালয়ে কক্সবাজার জেলার সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনাসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যেখানে পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
আমির খসরু জানান, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগও গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ে কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে কক্সবাজার অন্যতম প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র (গ্রোথ হাব) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’ পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবা খাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরো জোরালো হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।










