বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আগামী দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে কর্মপরিকল্পনা নেয়া জরুরি। এছাড়া থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসা ব্যয়ের চেয়ে প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলা বেশি জরুরি।
আজ বুধবার (৭ মে) সকালে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর চিকিৎসায় বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা খরচ হয়। দেশে যদি এক শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে দুই থেকে দশ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এই ব্যয় আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই ব্যয় কমাতে আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে ১০-১১ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। যদি দুইজন বাহক বিয়ে করেন, তাহলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি। এতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে বড় ধরনের খরচ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
এই রোগ প্রতিরোধে কাজী, ইমাম ও শিক্ষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, বিয়ের সময় কাজীরা যদি বিষয়টি গুরুত্ব দেন, তাহলে অনেক পরিবারকে সচেতন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাহক হলে কোনো সমস্যা নেই। বাহক ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু দুইজন বাহক একত্র হলে তাদের সন্তানের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়।
এ সময় তিনি নিজের রক্ত পরীক্ষা করিয়ে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পেডিয়াট্রিক মেডিসিন প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. সেলিমুজ্জামান, জেনফার বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার ডা. আরেফিন ও ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন।
এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী থ্যালাসেমিয়া দিবস পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ১৯৯৮ সাল থেকে এই রোগের চিকিৎসা শুরু হয় শিশু হাসপাতালে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘থ্যালাসেমিয়ার জন্য সামাজিক ঐক্য গড়ি, রোগীর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করি’।










