নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় জাতীয় উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, নদী রক্ষা করা না গেলে দেশের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়বে। তাই নদী বাঁচাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নোঙর ট্রাস্ট এ সভার আয়োজন করে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেশের স্বার্থ ও মানুষের জীবন জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। ছোটবেলা থেকেই দেশের তিন ভাগ পানি ও এক ভাগ স্থল —এ কথা সবাই শিখে এসেছে। মানুষের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক কমে যাওয়ায় এখন নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় বক্তারা ২৩ মে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার দাবি জানান। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ দাবির সঙ্গে তিনিও একমত। জাতীয়ভাবে এ আন্দোলনকে আরো বিস্তৃত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি ছিল জনসম্পৃক্ত উন্নয়নের বড় উদাহরণ। এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ, নৌপরিবহন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তার দূরদর্শী চিন্তা থেকেই স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথ তৈরি হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পদ্মা ব্যারেজ ও ফারাক্কা ইস্যুতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে এ্যানি বলেন, দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। রাজনীতিতে শালীনতা বজায় রাখতে হবে। কোনো ভুল ধরিয়ে দিলে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে, তবে অগণতান্ত্রিক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আনিছুর রহমান বলেন, খাল দখল ও দূষণের কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ছে। খালগুলো দখলমুক্ত করা গেলে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হবে এবং পরিবেশ দূষণও কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি নদী ও খাল দখলমুক্ত করতে আলাদা প্রকল্প নেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্প গ্রহণে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, নদী রক্ষা ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানান তিনি।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস। তিনি ২৩ মে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার দাবি জানান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানার যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় নদী দূষণ বাড়ছে। নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে নদী রক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।









