নির্মাণ খাতে বিশেষ করে ইস্পাত ও সিমেন্টে আমরা পুরনো প্রযুক্তিতে পণ্য তৈরি করে থাকি। আবার নতুন প্রযুক্তিতেও করি। এখন পর্যন্ত পুরনো ও নতুন—দুই প্রযুক্তিতেই আমরা ইস্পাত ও সিমেন্ট তৈরি করে থাকি।

পুরনো প্রযুক্তিতে যে সিমেন্ট আমরা তৈরি করি, সেখানে প্রতি টন সিমেন্ট উৎপাদনে ৪৫ থেকে ৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। আবার নতুন প্রযুক্তিতে যেটা তৈরি করি, সেখানে ২৮ থেকে ৩০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়। আমাদের রড তৈরির যে নতুন প্রযুক্তি আসছে, আমরা যে ধরনের ইস্পাত তৈরি করি তাতে পুরনো প্রযুক্তিতে যেখানে এক টন রড তৈরি করতে ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, সেখানে নতুন প্রযুক্তিতে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোওয়াটের মধ্যে করতে পারছি।

এই যে আমরা বিদ্যুৎ খরচ কমাচ্ছি, কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছি, প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমাচ্ছি। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা আমরা তৈরি করছি। এগুলো আমরা ইস্পাত শিল্পে করছি এবং সিমেন্ট শিল্পেও করছি। নতুন প্রযুক্তিতে যে ইস্পাত বা রড তৈরি হচ্ছে, সেটা শুধু বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খরচ কমায়, তা নয়। এটি উচ্চ শক্তির রড তৈরি করে। আগে যেটা ৪০০ গ্রেডে ছিল, সেটি এখন আপগ্রেড হয়ে ৫০০ গ্রেডে এসেছে। আবার ৫০০ গ্রেড থেকে ৬০০ গ্রেডে এসেছে। নতুন প্রযুক্তিতে ইস্পাত তৈরি করলে সেটি ৬০০ গ্রেড পর্যন্ত করা যায়।

৫০০ গ্রেডের শক্তি হচ্ছে ৭২ হাজার ৫০০ পিএসআই, আর ৬০০ গ্রেডের শক্তি হচ্ছে ৮৭ হাজার পিএসআই। অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ বেশি শক্তি। ২০ শতাংশ বেশি শক্তিসম্পন্ন ৬০০ গ্রেডের রডকে মাথায় রেখে যদি নকশা করা হয়, তাহলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রডের ব্যবহার কমে যায়।

আমার শুধু অনুরোধ, এ ধরনের শিল্প—যেগুলো আমাদের দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে—সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বারবার প্রত্যেকের বক্তব্যে সবুজ অর্থায়নের বিষয়টি উঠে এসেছে। বিষয়টি যেন সংশ্লিষ্ট সবাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখেন। আশা করি, রাজউক ও আমাদের আবাসন খাতও বিষয়টি মাথায় রেখে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন রডের ওপর ভিত্তি করে নকশা প্রণয়ন করবে।

একই সঙ্গে এ ধরনের প্রযুক্তি দেশে চালু করতে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলো যেন সরকারের বিভিন্ন অর্থায়ন, কর ও মূল্য সংযোজন করের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা পেতে পারে, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।