দিনাজপুরের বিরামপুরে পলিপ্রয়াগপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘরের জন্য অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিনামূল্যের এসব ঘর পেতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের ২০-২৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে।
সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাস্তবায়নাধীন বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এসব ঘর করে দেয়া হয়। সারা দেশের মতো দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬০টি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪০টি ঘর দেয়া হয় বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন পরিষদের অধীন যেসব ঘর দেয়া হয়েছে সেখানে অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকার ঘর পাওয়া উপকারভোগী করনেল সরেন বলেন, ‘যখন সরকার থেকে বাড়িঘর করে দেয়ার কথা জানতে পারি তখন আমরা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে যাই। এ সময় তিনি বলেন, বাড়ি যদি নেন তাহলে ওপর লেভেল থেকে আমাদের টাকার কথা বলেছে। এখন ওদের টাকা না দিলে তো আমাদের আর বাড়ি দেবে না। সেই অনুপাতে আমি নিজ হাতে ইউপি চেয়ারম্যানকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি।’
ঘর পাওয়া আরেক উপকারভোগী মার্তিনা হেমব্রম বলেন, ‘আমাদের তো মাটির ঘরবাড়ি ছিল, সেখানেই কোনো রকম করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলাম। সরকার থেকে বাড়িঘর করে দিচ্ছে জেনে সবাই চেয়ারম্যানের কাছে যাই। সে সময় চেয়ারম্যান আমাদের বলেন, টাকা জমা করতে হবে। আমরা বললাম কত টাকা। তিনি বললেন ২৫ হাজার টাকা। তাই বাড়িতে একটা গরু ছিল সেটি বিক্রি করে চেয়ারম্যানকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি। এরপর ইট, খোয়া, বালি, সিমেন্ট এল, তারপর ঘর তৈরি করে দিল।’
আরেক উপকারভোগী মেলদা মুর্মু বলেন, ‘২৫ হাজার টাকা চাইছিল, কিন্তু আমার তো অত টাকা দেয়ার সামর্থ্য ছিল না। অনেক কষ্ট করে ২০ হাজার টাকা ম্যানেজ করে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি।’
পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহমত আলী বলেন, ‘এ নিয়ে আমার তিনবার এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। আমি কোনোদিন এ ধরনের কাজ করিনি। উপজেলার কেউ বলতেও পারবে না। আমার প্রতিপক্ষের কেউ হয়তোবা এসব কথা বলতে পারে। কারো কাছ থেকে টাকাপয়সাও আমি নিইনি।’
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুজহাত তাসনীম আওন বলেন, ‘আমি অল্প কিছুদিন হলো এ উপজেলায় যোগদান করেছি। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










