গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। বুধবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও-এ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য সবুজ ভবন ও জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং স্বল্প-কার্বন নকশার ব্যবহার কার্বন নিঃসরণ কমাবে এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে ২০৩৭ সালের মধ্যে নগরবাসীর সংখ্যা গ্রামীণ জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৫৬ শতাংশের বেশি মানুষ শহরে বসবাস করবে। তাই দ্রুত নগরায়ণ এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে টেকসই নির্মাণব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সবুজ নির্মাণকে আরো মানসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হয়েছে। যা ভবিষ্যতে দেশে সবুজ ভবন নির্মাণে কার্যকর নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, কর্মশালার সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে টেকসই ও সবুজ নির্মাণব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউএনওপিএসের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরলিধরন, ইউএনওপিএসের রোম লিয়াজোঁ অফিসের প্রতিনিধি ও প্রধান মার্টিন আরেভালো দে লেওন এবং ইউএনইপির প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা সেলিয়া মার্টিনেজ হুয়েজ।
কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।










