প্রায় ২৫ দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর খননের শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। লিজ নেয়া দুটি পক্ষ প্রশাসনের সামনে ট্রাকভর্তি মাটি বাইরে বিক্রি করলেও সেটি বন্ধে এতদিনেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মাটি লুট হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের শিক্ষকরা। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধন রয়েছে দাবি করে শিক্ষকরা বলেন, প্রশাসন এ প্রক্রিয়া বন্ধে বা ওই ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ বিধিবহির্ভূতভাবে কারো কাছে ছেড়ে দেয়া অথবা এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা নিশ্চিতভাবেই দুর্নীতি ও লুটকে সমর্থনের শামিল।
শিক্ষকদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এর প্রতিটি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এর প্রশাসনের। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি দপ্তর যেমন কৃষি প্রকল্প, এস্টেট ও প্রক্টরিয়াল অফিসও রয়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্রয় ও ইন্ধন রয়েছে এবং প্রকারান্তরে তারা এ ন্যক্কারজনক কাজে জড়িত বলে জাতির কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান তার দায়িত্বের শেষ কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর মার্চে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্ব পাশের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের টেন্ডার হয়। এতে মাসুদ রানা ও অহনা ট্রেডার্স নামের দুটি প্রতিষ্ঠান ইজারা পায়। তবে শর্তভঙ্গ করে গত ২৭ মার্চ থেকে খননরত পুকুরের মাটি ট্রাকে ভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যেতে থাকে জোহা হলের পূর্বে দক্ষিণ জলাশয় লিজগ্রহীতা দুই পক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি মাটি বিক্রি বন্ধে দুই দফা নির্দেশনা দেয়া হলেও এ নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না।
সর্বশেষ ২২ এপ্রিল বিষয়টি বন্ধের উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি সভা করেছে বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। আজ ওই ইজারা নেয়া দুটি পক্ষের সঙ্গে প্রশাসনের বসার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।









