কুড়িগ্রামে ৩৫ বছর পূর্বের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমির ভুয়া দলিল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন। জেলার সিআইডি পুলিশ আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

মামলার বাদী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার বদরপুর গ্রামের মৃত নজির হোসেনের স্ত্রী দৌলতন নেছা গত ৩৫ বছর আগে মারা যান। জীবিত থাকাবস্থায় তার অল্প পরিমাণ জমি প্রতিবেশী মজিবর রহমানের নিকট বিক্রি করেছিলেন। মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর ওই এলাকা নদীভাঙ্গনের শিকার হলে দৌলতন নেছার পরিবার উপজেলার বটতলা (কারিগরপাড়া) গ্রামে এবং মজিবর রহমানের পরিবার টাংগালিয়াপাড়া গ্রামে বসতি স্থাপন শুরু করেন।

মজিবর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩২) তার মাতা জহুরা খাতুনকে (৬০) ভুয়া দৌলতন নেছা সাজিয়ে দলিল লেখক মোঃ নূরুন্নবীর (৩৬) মাধ্যমে চর রাজিবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মৃত দৌলতন নেছা-র বদরপুর গ্রামের ৫০ শতক জমি নিজ (ইসমাইল) নামে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। বিতর্কিত ওই দলিল নং-১৩১/২০। এরপর জমির দখল নিতে গেলে দলিলপত্র দেখতে চান মৃত দৌলতন নেছার নাতি আব্দুল করিম (৪৭)। এ সময় ইসমাইল হোসেন ওই ভুয়া দলিলের অনুলিপি দেখান এবং জমি জবর দখল করেন।

পরে দলিল ভুয়া অনুমান হলে আব্দুল করিম চর রাজিবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রাথমিক যাচাই করেন এবং সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 

মৃত দৌলতন নেছার নাতি ও উক্ত মামলার বাদী আব্দুল করিম জানান, আসামিরা একটি ভুয়া দলিল বানিয়ে জোরপূর্বক জমি জবর দখল করেছে। আদালতের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে আমি জমি ফেরত পেতে চাই।  

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক এম এ ফারুক বলেন, দৌলতন নেছার জীবিত অবস্থায় সম্পাদনকৃত জমির দলিলে আঙ্গুলের ছাপ এবং সম্প্রতি করা দলিলের ছাপের মধ্যে মিল পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনটি বিজ্ঞ আদালতের নিকট জমা দিয়েছি।