ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে গণভোট। এবারের গণভোটে 'হ্যাঁ' বিজয়ী হলে সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত জেলা ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ সম্মেলন আয়োজন করে।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে। একটি সাদা, অন্যটি গোলাপি। সাদা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সবাই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। গোলাপি রঙের ব্যালটে জুলাই সনদের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেয়ার সুযোগ আছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করার দায়বদ্ধতা থেকে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট প্রদানে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে সরকার।
গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, এদেশে একবার কেউ ক্ষমতায় যেতে পারলে ছলেবলে কৌশলে, প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। গণভোটের মাধ্যমে এরূপ হীন মানসিকতার পরিবর্তন ঘটবে। রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির জাগরণ ঘটবে।
দেশের চাবি আপনার হাতে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। আপনারা গণভোটে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে থাকলে আগামীতে কোনো সরকার দলের প্রয়োজনে ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। সংবিধানের মৌলিক কোনো পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে গণভোট আবশ্যক হবে। এ ছাড়া, জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হবে। ব্রিটেন, আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংসদে এরূপ উচ্চকক্ষ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ভোটের গাড়ি 'সুপার ক্যারাভান' এর মাধ্যমে গণভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য প্রচার করা হয়।
জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুজ্জামান, জেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়র মাহমুদ বক্তব্য দেন।










