বাংলাদেশে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন-২০-এর সরকারি দলের সদস্য সুবর্ণা সিকদারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সংসদ সদস্য সুবর্ণা সিকদার তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন যে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে ট্রাস্টের সীমিত রাজস্ব ও তহবিল দিয়ে সারা দেশে এ কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।
তিনি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের স্থায়ী তহবিল ও সরকারি অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না, তা জানতে চান।
জবাবে ধর্মমন্ত্রী হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অবকাঠামোগত ও সেবামূলক কার্যক্রম আরো জোরদার করতে অদূর ভবিষ্যতে আরো কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) রয়েছে। উক্ত আমানত থেকে অর্জিত মুনাফা ও প্রাপ্ত অর্থ নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও অনুদানে ব্যয় করা হয়।
ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিলের বাইরেও সরকার প্রতি অর্থবছরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে সরাসরি মন্দির পরিচালনা, সংস্কার ও শ্মশানঘাট উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা ধৈর্য ধরুন, আগামী দিনগুলোতে ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় আরো সুদৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধর্মমন্ত্রী জানান, সরকার সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সমঅধিকার ও সুষম সুযোগ-সুবিধা প্রদানের নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সব ধর্মের উপাসনালয় ও কল্যাণে সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তার ধারা অব্যাহত থাকবে।









