দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য মজুদ ও খাদ্যের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে দুর্যোগ বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত মজুদ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার খাদ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। দেশের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে কিনা, খাদ্যের গুণগত মান ঠিক আছে কিনা এবং দুর্যোগের সময় মানুষের কাছে যথাযথভাবে খাদ্য পৌঁছে দেয়া যাবে কিনা—এসব বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। এ কারণে নিরাপদ মজুদ ও খাদ্যের মান দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন খাদ্য অধিদপ্তরে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। দুয়েক জনের অনিয়মের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
দীর্ঘদিনের অসম্পন্ন কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার নির্দেশ দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব একসঙ্গে সামনে এসেছে। প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনায় এসব কাজ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্য গুদাম ও অবকাঠামোর দুরবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গুদামটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য খাদ্য গুদাম ও স্থাপনার অবস্থাও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খাদ্য পরিদর্শক, ওসি-এলএসডিসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের নিয়মিত মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের কাজের মান, গুদামে খাদ্য মজুদের পরিমাণ ও গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সন্তুষ্টির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। ভালো কাজের জন্য কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তির শিকার না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে নিয়মিত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা খাদ্য অধিদপ্তরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।










