আগামীকাল রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। এ সমাবেশ ঘিরে রাজশাহী বিভাগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বাস চলাচল। গতকাল সকাল থেকেই জেলার অভ্যন্তরীণ, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটের কোনো বাস রাজশাহী ছেড়ে যায়নি। এতে বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
বাস বন্ধে চাপ বেড়েছে ট্রেনে। টিকিট না পেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গন্তব্যে পাড়ি দেন অনেকেই। অনেকে আবার অটোরিকশা-ভটভটিতে চেপে রওনা হন। এদিকে বাস ধর্মঘট সত্ত্বেও বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে দলবেঁধে বিএনপি নেতাকর্মীরা বুধবার দিবাগত রাত থেকেই রাজশাহী নগরীতে আসতে শুরু করেছেন।
সমাবেশস্থল রাজশাহী নগরীর মাদ্রাসামাঠের তাঁবুতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। মাঠেই রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া চলছে তাদের। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। নগরীর নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
পরিবহন নেতারা বলছেন, মহাসড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অবৈধ যান চলাচল বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে তারা ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত ২৬ নভেম্বর এ নিয়ে পরিবহন মালিক সমিতি বিভাগীয় কমিশনারসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দেয়। কোনো আশ্বাস না পেয়ে গতকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে।
বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, দেশের অন্যান্য বিভাগের মতো এখানেও ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। তবে বুধবারই বিএনপির অনেক নেতাকর্মী রাজশাহী পৌঁছে গিয়েছেন। ধর্মঘট উপেক্ষা করে গতকালও নেতাকর্মীরা এসেছেন। ধর্মঘট ডেকে বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম ঠেকানো যাবে না।
ধর্মঘটের বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাফকাত মঞ্জুর বলেন, ১০ দফা দাবিতে গতকাল ভোর থেকে তাদের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বিভাগের আট জেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘট চলছে। কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।
এদিকে বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করলে তারা বাধা দেবেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
গতকাল দুপুরে নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি সমাবেশের নামে আবারো নাশকতা ঘটাতে পারে। রাজশাহী শান্তির শহর। এ শহরে তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করুক। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও বলে দেয়া হয়েছে, তারা অবস্থান নেবেন। কোনো রকম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আওয়ামী লীগ তার জবাব দেবে।
তিনি আরো বলেন, রাজশাহীতে সমাবেশ ঘিরে বিএনপির নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে দেশে কোনো সরকার নেই। তারা বক্তব্য দিয়ে বলছেন, রাজশাহীতে সেমিফাইনাল খেলা এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় ফাইনাল খেলা হবে। অথচ ঢাকায় তারা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাচ্ছেন না। এর পেছনে কারণ হচ্ছে, ওই মাঠেই তো বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানেই শত্রুবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। তারা মুখে যতই স্বাধীনতার কথা বলুন, আসলে তারা মননে-মগজে পাকিস্তানপন্থী। জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এছাড়া মাঠ ভরার মতো লোক তারা আনতে পারবে কিনা, এ নিয়েও বিএনপির সংশয় রয়েছে।
মেয়র আরো বলেন, বিএনপি নেতারা বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে যেসব কথাবার্তা বলছেন, তা বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য যা যা বলা দরকার, তাই বলছেন। ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে নেয়ার কথা বলছেন, বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স ব্যাংকের মাধ্যমে না পাঠিয়ে অন্যভাবে পাঠানোর কথা বলছেন। এটা তো রীতিমতো অপরাধ।









