যশোরে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দরিদ্র শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পেয়েছেন। গতকাল সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ৬৬ শিক্ষার্থীকে ৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হয়। গত তিন বছর এডুকেশনাল চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান অর্গানাইজেশনের (ইকো) উদ্যোগে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আমান বাংলাদেশের বাস্তবায়নে এ বৃত্তি দেয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ দাশ। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত ও বিত্তবানদের সমাজের কাছে দায়বদ্ধতা রয়েছে। আজ যারা সহযোগিতা নিলেন, তারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে দারিদ্র্য, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এটাই কামনা করি। আশা করব আপনারা অতীতকে ভুলে যাবেন না।’

শিক্ষাবৃত্তির চেক নেয়ার সময় যশোর নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থী লোকনাথ রায় বলেন, ‘বাবার সামান্য আয়ে পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। তারপর সংসার খরচ আছে। ইকো-আমানের এই সহযোগিতা পেয়ে আমার অনেক উপকার হয়েছে। এ সহযোগিতা আমার পড়াশোনার পথ সুগম করবে।’

কুষ্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘ইকো-আমানের সহযোগিতায় লেখাপড়ার খরচ চালাতে সহজ হচ্ছে। বই-খাতাসহ শিক্ষার বিভিন্ন উপকরণ কিনতে পারছি এ অর্থের মাধ্যমে। আগে ক্লাসের খরচের জন্য বাবার কাছ টাকা চাইতে হতো। শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ায় এখন বাড়িতে টাকা চাইতে হয় না।’

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র উৎপল কুমার দে জানান, পারিবারিক নানা সংকটের মধ্যে লেখাপড়া চালিয়ে যা”েন তিনি। শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে ১৫ হাজার টাকার চেক পেয়েছেন। এ টাকা তার লেখাপড়ার কাজে আসবে। সমাজের বিত্তবানরা তাদের মতো দরিদ্র শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালে আর্থিক কারণে মেধাবীরা ঝরে পড়বে না।