বাংলাদেশের বিকাশমান শিল্পখাতের অংশীদার হতে আগ্রহী পাকিস্তান। আজ (২১ আগস্ট) অন্তবর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা বলার পাশাপাশি পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান দুই দেশের বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ বাংলাদেশের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শিল্প সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারও উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশের অর্থনৈতিক ও শিল্পভিত্তি পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও শিল্প উপদেষ্টা। আলোচনায় খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য শিল্পে মূল্য সংযোজন এবং শিল্প প্রযুক্তি সমন্বয়ের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসে। এ ছাড়া প্রতিনিধি দল বিনিময় ও জ্ঞান আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির ওপরও জোর দেয়া হয়।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিকাশমান শিল্পখাতের সঙ্গে অংশীদার হতে পাকিস্তান আন্তরিকভাবে আগ্রহী। যৌথ বিনিয়োগ, সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পখাতে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য একটি সহায়ক অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানান তিনি। রাজস্ব আয় ও সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে মূল্য সংযোজন শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশের শিল্প উপদেষ্টা বলেন, শিল্পোন্নয়নে বাংলাদেশ এরইমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং দেশের শিল্পখাতের চাহিদাও ক্রমেই বাড়ছে। জ্ঞান আদান-প্রদান ও শিল্প সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি চামড়া, জাহাজ নির্মাণ, চিনি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও শিল্পোন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।