দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ওভারল্যাপিং বা একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘এডিপির আওতায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে এর উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের কোনো ধরনের ওভারল্যাপিং রয়েছে কিনা, তা প্রযুক্তিনির্ভরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।’

গতকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি : চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। ন্যাশনাল প্রডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আলোচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক ও এনপিওর মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এনএসডি মূলত একটি রেগুলেটরি বিষয়, আর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়। দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখলে চলবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে যদি একই ধরনের কার্যক্রম থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’

এডিপির নতুন প্রকল্প প্রস্তাবগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় প্রকল্প চলমান আছে কিনা, তা শনাক্ত করা সম্ভব হলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে। সরকারি প্রকল্পে ডুপ্লিকেশন বা ওভারল্যাপিং কমানো গেলে এডিপি বাস্তবায়নে তৈরি হওয়া অদক্ষতার বড় একটি অংশ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।’ 

বিশ্ববাজারের বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘উৎপাদনশীলতা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সে বাজার দখল করবে। তাই কৃত্রিমভাবে বাজার সুরক্ষা দেয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘উৎপাদনশীলতা শুধু শিল্প-কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয় নয়; এটিকে একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। কম শ্রম ও কম সম্পদ ব্যবহার করে অধিক এবং উন্নতমানের উৎপাদন নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।’ 

তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা থাকলে সাধারণ শ্রমিকরাও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের মূল ঘাটতি শুধু দক্ষতার নয়; নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্পের ঘাটতিও বড় চ্যালেঞ্জ।’