এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে নগরীর খুলশী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি বলেন, গত সোমবারের অভিযানে মোট ৩ হাজার ১৭৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৫০০ জন, জেলা পুলিশের ১৫০, সিএমপির ৮০০, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের প্রায় ৪০০, পার্বত্য জেলার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রায় ১৫০ জন এবং র‍্যাবের প্রায় ৪০০ সদস্য ছিলেন।

এছাড়া জেলা প্রশাসনের সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার), সিএমপি ও র‍্যাবের তিনটি ডগ স্কোয়াড ও ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

ডিআইজি জানান, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা ও সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থানস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে মোট তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে একটি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশী পিস্তল ও একটি এলজি রয়েছে। ২৭টি দেশীয় তৈরি পাইপগান, তিনটি পিস্তলের ম্যাগজিন, অস্ত্র তৈরির ২৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ ও বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি ককটেল, ১৮টি হ্যাকস ব্লেড ও হাতুড়ি, প্লায়ার্স, রেঞ্চ, ড্রিল মেশিনসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানের সময় পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের স্থাপন করা বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান ডিআইজ। তিনি বলেন, এসব স্থাপনার মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। অভিযানের সময় এসব নজরদারি ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পুরো এলাকাটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট ও টহলের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। প্রয়োজনে ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এলাকায় কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা সহায়তা পেত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। সেখানে যারা বসবাস করছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। প্রয়োজন হলে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানান ডিআইজি।

এদিকে, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ডা. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, এখানে যে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন ছিল, তা এখন হয়েছে। সরকার আগে থেকেই এ এলাকা ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছিল। এখন সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ বসতির জন্য আলোচিত। প্রায় ২ হাজার ১০০ একর খাস জমিজুড়ে গড়ে ওঠা এ পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। গত ১৯ জানুয়ারি এলাকাটিতে অভিযানে গিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন র‌্যাব-৭-এর সদস্য নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।