একটি পৃথক সংস্কার কমিশন এবং গুরুত্ব বিবেচনায় ভূমি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণে একজন উপদেষ্টা নিয়োগের দাবি করেছে ১১টি সংগঠন। ভূমি ও কৃষি সংস্কারে আশু, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে করণীয় চিহ্নিত করে সরকারের কাছে তুলে ধরার জন্য এ দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে এএলআরডি, নিজেরা করি, ব্লাস্ট, বেলা, বারসিক, কাপেং ফাউন্ডেশন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন, ইনসিডিন-বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনগুলো গতকাল সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘মৌলিক ভূমি ও কৃষি ব্যবস্থাপনা সংস্কারের জন্য অবিলম্বে আলাদা কমিশন নিয়োগের দাবি’ শিরোনামে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলে। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষে মূল বক্তব্য পাঠ করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

মূল বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, জিডিপিতে অবদানের ক্ষেত্রে সেবা ও শিল্প খাতের পর কৃষি (ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বন) তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাত হলেও বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে কৃষির গুরুত্ব সর্বাধিক। দেশে কৃষি শ্রমশক্তির ৫৮ শতাংশই নারী এবং মোট নারী শ্রমশক্তির সিংহভাগই (৭৪ শতাংশ) কৃষিতে নিয়োজিত থাকার পরও নারীর ক্ষমতায়ন প্রশ্নে ভূমি ও কৃষিতে তাদের অভিগম্যতা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে কখনো গুরুত্ব পায়নি। দেশের আদিবাসীরা তাদের ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তার অধিকার সুরক্ষিত নয়। প্রকৃত কৃষক যারা তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলহানি, দেশী-বিদেশী বীজ, কীটনাশক, কৃষি সরঞ্জাম কোম্পানির শোষণ এবং সর্বোপরি ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হন তারা। তাদের সুরক্ষার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত থেকে যায়। অন্যদিকে ভূমিবিরোধের বিচারের ক্ষেত্রেও তাদের বিপুল অর্থব্যয়সহ যে হয়রানি ও ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয় সেটির প্রতিকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বারসিকের পরিচালক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ, ব্লাস্টের পরিচালক অ্যাডভোকেট বরকত আলী, কাপেং ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি উজ্জ্বল আজিম, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের আইনজীবী নাহিদ শামস, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নিরালা মার্ডি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমানা শারমিন।