নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে গত মার্চ থেকে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটের ফ্লাইট। বন্ধ রয়েছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে আসা রাজস্ব আয়ও। এ অবস্থায় ব্যয় সংকোচনে বিদেশের স্টেশনগুলোয় চাকরিরত স্থানীয় কর্মচারীদের বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড।
জানা গেছে, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিমানের নির্বাহী পরিচালকদের দশম সভায় বিভিন্ন দেশে থাকা স্টেশনগুলোতে কর্মরত বিদেশী কর্মীদের চাকরি থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) বিদেশের স্টেশনগুলোর সব কান্ট্রি ম্যানেজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি বাধ্যবাধকতা ও স্থানীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে আলোচনা করে চলতি সপ্তাহে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ একটি প্রতিবেদন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতা এড়িয়ে কীভাবে বিদেশের স্টেশনগুলোর স্থানীয় কর্মচারীদের চাকরি থেকে বাদ দেয়া যায়, সেটিও দেখতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, মূলত ফ্লাইট কার্যক্রম বন্ধ থাকা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসার সময়কাল অনিশ্চিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া কর্মীদের সব ধরনের ছুটির নগদায়ন বন্ধ, উড়োজাহাজ ফেরত দিতে ইজারাদাতাদের কাছে নোটিস জারির লক্ষ্যে আইনি নোটিস প্রস্তুত করার বিষয়গুলোও দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ৭ মে পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ১৬টি দেশ হচ্ছে বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য। এসব দেশ থেকে কোনো ফ্লাইট বাংলাদেশে অবতরণ করতে পারবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও এসব দেশে কোনো ফ্লাইট যেতে পারবে না। আর এসব আন্তর্জাতিক রুটের অধিকাংশেই ফ্লাইট রয়েছে বিমানের।










