দিনাজপুরের হিলিতে বৃষ্টির মধ্যে সড়কের কার্পেটিং কাজের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এমন কর্মকাণ্ডের জন্য তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বৃষ্টির মধ্যে কার্পেটিং করা অংশ তুলে ফেলার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিলির বোয়ালদাড় ইউনিয়নের বৈগ্রাম থেকে পাশের পাইকপাড়া গ্রামের সংযোগ সড়কের ৪০০ মিটার কাঁচা অংশ পাকাকরণের কাজ চলছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কের কাজ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও কর্ণপাত করেনি ঠিকাদারের লোকজন। এরই মধ্যে শুক্রবার ছুটির দিনে বৃষ্টির মধ্যেই সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ করেন ঠিকাদার। এ সময় স্থানীয় একজন ওই কাজের একটি ভিডিও ফেইসবুকে পোস্ট করেন। মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে এ নিয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, ‘আমাদের গ্রামের রাস্তাটি পাকাকরণের কাজ চলছে। কিন্তু এখানে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। এমন নিম্নমানের কাজ শিশুরা হাত দিয়ে সড়কের কার্পেটিং তুলে ফেলছে। পা দিতেই উঠে যাচ্ছে এসব কার্পেটিং। সড়ক যতটুকু প্রশস্ত থাকার কথা তাও করা হয়নি। শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টির মধ্যেই সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ করা হচ্ছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আসা মাত্রই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের কার্পেটিং কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। সড়কের যে অংশে বৃষ্টির মধ্যে কার্পেটিং করা হয়েছিল ও স্থানীয়রা যতটুক পর্যন্ত নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ করেছিলেন তা উঠিয়ে ফেলা এবং সড়কটি যথাযথভাবে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া সড়কের কার্পেটিং কাজ শুক্রবার ও শনিবারের পরিবর্তে অফিস সময়ে করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জাহিদুল হুদা বিটন বলেন, ‘সড়কটিতে কোনো নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে না। আমাদের প্লান্ট মেশিন বসানো হয়েছে ডাঙ্গাপাড়ায়। শুক্রবার আকাশ ভালো দেখে আমরা প্লান্ট চালু করি। সেখান থেকে ট্রলি করে বিটুমিন নিয়ে যাওয়া হয় বৈগ্রাম সড়কে। দুপুরে হঠাৎ করে বৃষ্টি হয়। এ কারণে চালক না বুঝেই বৃষ্টির ভেতরে এক ট্রলি বিটুমিন সড়কে ঢেলে দেন, কিন্তু বৃষ্টির কারণে বাকি তিন ট্রলি মালপত্র ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয় প্লান্টে। গ্রামবাসী ইউএনওকে অভিযোগ দিলে আমরা তাকে ডেকে এনে দেখিয়েছি। ভুলে করে এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছি। যে এক ট্রলি মাল ফেলা হয়েছিল সেটি এরই মধ্যেই সড়ক থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলে আবারো কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হবে।’









