বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে টেকসই ব্লু ইকোনমি নিয়ে দুদিনব্যাপী আঞ্চলিক সংলাপ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ অন সাস্টেনেবল ব্লু ইকোনমি, কানেক্টিভিটি অ্যান্ড রেজিলেন্স ফর স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেট (সাইডস) শীর্ষক এ উচ্চপর্যায়ের সংলাপ যৌথভাবে আয়োজন করেছে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন, মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) এবং পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনস।

সংলাপে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগী অংশগ্রহণ করছেন। দুদিনের এ সংলাপে ব্লু ইকোনমি কৌশল, বন্দর ও শিপিং সংযোগ, অর্থায়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তর, জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, বিজ্ঞান-নীতি সংযোগ এবং টেকসই মৎস্য ও পর্যটন খাত নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার রোডম্যাপ নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপের আলোচনাগুলো ‘ঢাকা স্টেটমেন্ট’ আকারে একটি আঞ্চলিক অবস্থানপত্রে রূপ পাবে, যা ভবিষ্যতের আন্তঃআঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংলাপে উপস্থাপিত হবে।

এ সময় জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিতসুতাকু মাকিনো বলেন, ভারত মহাসাগর, যা ‘গ্রেট মিডল বে’ নামেও পরিচিত, এটি ত্রিশটিরও বেশি দেশ এবং প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষকে সংযুক্ত করে। জাপানের জন্য মহাসাগরটি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরই নয়, বরং এটি এমন একটি যৌথ পরিসর, যেখানে আমাদের পারস্পরিক ভাগ্য একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বঙ্গোপসাগর বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপসাগর। বাংলাদেশ যদি তার সমুদ্রসীমার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায়, তাহলে আমাদের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পারস্পরিক অংশীদারত্বে আরো উচ্চমাত্রায় কাজ করতে হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের মহেশখালীকেন্দ্রিক উপকূলীয় উন্নয়ন ও কৌশলগত অবকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিডা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বতন্ত্র দাতা প্রতিষ্ঠান সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সরকারের ২০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার চিহ্নিত ফিশারিস ও মেরিন এফেয়ার্স সংক্রান্ত বিষয়ে অগ্রাধিকারের ওপর কাজ করবে।

এ সহযোগিতার আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে জাপানের ব্লু ইকোনমি মডেল এবং উমিগয়ো (সমুদ্রকেন্দ্রিক উপকূলীয় উন্নয়ন) পদ্ধতি মহেশখালী এলাকায় প্রয়োগের সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ; মৎস্য ও উপকূলীয় পর্যটন নিয়ে বেসলাইন স্টাডি; অবকাঠামো উন্নয়ন যেমন জেটি, অটোমেটেড ফিশ ল্যান্ডিং ও কোল্ড-চেইন অবকাঠামো; এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, সামুদ্রিক খামার, সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সি-সেফটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণ।

উদ্বোধনী অধিবেশনে আরো বক্তব্য দেন মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ সিয়াজ; মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী ওপিআরআই-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এমাদুল ইসলাম, মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ এবং পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনসের উপদেষ্টা ড. মুগধো মাহজাব।