ভবিষ্যতে পানি বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘‌পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা না শিখলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি ক্ষেত্রে পানির গুরুত্ব ও সঠিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।’

গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর অফিস কক্ষে ইউনিসেফের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং উপকূলীয় এলাকায় বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি (অন্তর্বর্তীকালীন) গিলিয়ান মেলসপ, ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ (প্রোগ্রাম) এমানুয়েল আব্রিউসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকটিতে জানানো হয়, ইউনিসেফের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ওয়াসা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চলমান রয়েছে।

নিরাপদ ও সুপেয় পানির গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘‌পানি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ভবিষ্যতে পানি বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে বৈশ্বিকভাবেও পানি মানবজাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এ কারণে এখন থেকেই পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।’

পানি ব্যবস্থাপনায় উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘‌প্রায় ৬০ বছর আগে সুইডেনের মতো দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের নেতিবাচক দিক উপলব্ধি করেছিল। বাংলাদেশও বর্তমানে একই ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। তাই এসব দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।’

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘‌বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শিল্পায়নের সঙ্গে পানির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বিশেষ করে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে শিল্প-কারখানার বর্জ্যের কারণে দেশের অনেক নদী ও খালের পানি দূষিত হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায়ও পানিসংক্রান্ত নানা সমস্যা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‌উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে, তবে সে উন্নয়ন যেন মানুষের জীবন ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু ভালো আবাসন নিশ্চিত করলেই হবে না; মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও সুস্থ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।’

এ সময় পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।