গতকাল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা এ রিটে গুম হওয়া ব্যক্তিকে আদালতের সামনের হাজির করার জন্য সরকার এবং কোস্টগার্ডের প্রতি নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

রিটটি করেছেন নিখোঁজ যুবকের বাবা মো. মোস্তফা শেখ। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন তার বাবা। নিখোঁজ সন্তানকে আদালতে হাজির করে তার অবস্থান ও আটকের আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেয়া প্রয়োজন।

আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিটটি হাইকোর্টের বিশেষ মূল এখতিয়ার বেঞ্চে দায়ের করা হয়েছে। আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন।

গুমের এ অভিযোগকে অস্বীকার না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষ আশা করেছিল, গুমের মতো গুরুতর অভিযোগের আর পুনরাবৃত্তি হবে না। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী আবারো এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হাইকোর্ট যেহেতু এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, তাই কোনো সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান জানাতে হবে।’

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে গণমাধ্যমের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। তবে এ পর্যন্ত কোস্টগার্ড এ সংশ্লিষ্ট রিটের কোনো কপি বা আদালতের কোনো নোটিস পায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছে। আদালত থেকে কোনো নোটিস বা নির্দেশনা পেলে কোস্টগার্ড যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাসময়ে আদালতে প্রয়োজনীয় জবাব ও তথ্য উপস্থাপন করবে এবং আদালতের নির্দেশনা পরিপূর্ণভাবে প্রতিপালন করবে।’