সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ। তাই জেতার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা ছিল বাংলাদেশের। শুরুতে একের পর এক উইকেট হারালেও সৌম্য সরকারের ১৬৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের ওপর ভর করে ২৯২ রানের লক্ষ্য দেয়া হয় নিউজিল্যান্ডকে। তাতেও আটকানো যায়নি। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা। ২২ বল হাতে রেখে বাংলাদেশকে তারা হারিয়েছে ৭ উইকেটে।
নেলসনের সাক্সটন ওভালে টস জিতে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় নিউজিল্যান্ড। দলীয় ১১ রানের মাথায় পেসার অ্যাডাম মিলনের বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন ২ রান করা ওপেনার এনামুল হক বিজয়। অষ্টম ওভারে জ্যাক ডাফির বলে কভারে হেনরি নিকোলসকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৬ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উইকেটে এসে ডাফির দ্বিতীয় শিকার হন লিটন দাস (৬)। তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৮০ রানের মাথায় তাওহিদ হৃদয় (১২) রান আউট হলে চাপ আরো বেড়ে যায়। ক্রিজে সৌম্যর সঙ্গী হন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
৩৫তম ওভারে ভাঙে সৌম্য-মুশফিকের জমে যাওয়া জুটি। ডাফির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৫টি বাউন্ডারিতে ৫৭ বলে ৪৫ রান করা মুশফিক। দলীয় রান তখন ১৭১। মুশফিক ফেরার পর সেঞ্চুরির পথে হাঁটতে থাকেন সৌম্য। তিনবার জীবন পেয়ে অবশেষে ৪০তম ওভারের প্রথম বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৬৫তম ম্যাচে তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। ২০১৮ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন সৌম্য।
সেঞ্চুরির পর সৌম্যর বড় ইনিংস খেলার পথে সঙ্গ দেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও তানজিদ হাসান সাকিব। ষষ্ঠ উইকেটে মিরাজকে নিয়ে ৫৩ বলে ৬১ রান ও সপ্তম উইকেটে তানজিদের সঙ্গে ২৬ বলে ৪০ রান যোগ করেন। ও’রুর্কের করা শেষ ওভারের প্রথম বলে নিকোলসকে ক্যাচ দেন ২২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৫১ বলে ১৬৯ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলা সৌম্য। আর ৪৯ দশমিক ৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৯১ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের ডাফি ও ও’রুর্ক ৩টি করে উইকেট নেন।
২৯২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ভালো সূচনা করেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ইয়ং ও রবীন্দ্র। রিশাদের দারুণ ক্যাচে মারমুখী ব্যাট করা রবীন্দ্রকে (৪৫) শিকার করে বাংলাদেশকে প্রথম বেক-থ্রু এনে দেন পেসার হাসান মাহমুদ। এরপর হেনরি নিকোলসকে নিয়ে সহজেই দলের রানের চাকা ঘোরাচ্ছিলেন ইয়ং। ৩৩তম ওভারে নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ইয়ংকে বিদায় করেন হাসান। তার আগে তিনি ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৯৪ বলে ৮৯ রান করেন। দলীয় রান তখন ২০৪। শরিফুলের শিকার হওয়ার আগে ৯৯ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৯৫ রান করেন নিকোলস। চতুর্থ উইকেটে ৩৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৬ রান করে ২২ বল বাকি থাকতে নিউজিল্যান্ডকে জয়ের স্বাদ দেন লাথাম ও ব্লান্ডেল। বাংলাদেশের হাসান ২টি ও শরিফুল ১টি উইকেট নেন। জয় না পেলেও দুর্দান্ত ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরা হন সৌম্য সরকার।










