রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কবরস্থানে শায়িত আছেন অনেক গুণী শিক্ষক। অথচ সেখানেই বসছে নিয়মিত মাদকের আড্ডা। বসছে জুয়ার আসরও। নির্জনতা পুঁজি করে স্থানীয় মাদকসেবীরা পবিত্র এ স্থানকে মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছে। এ অনৈতিক কাজ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেই প্রশাসনের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানের উত্তর-পশ্চিম পাশের দেয়ালঘেঁষে আস্তানা গেড়ে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করছে বহিরাগতরা। বড় আকারে গর্ত করে মাদকদ্রব্যের উচ্ছিষ্ট রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে সেখানে। ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ ও ইয়াবা সেবনের নানা উপকরণে ভর্তি সেই গর্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যা গড়ালেই শুরু হয় তাদের কর্মকাণ্ড, যা চলতে থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। শুধু মাদক নয়, সেখানে অনৈতিক কার্যক্রমের ঘটনাও ঘটতে দেখেছেন স্থানীয় লোকজন।
কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা বলেন, জায়গাটি খুবই ভয়ংকর। সেজন্য তারাও সেখানে যান না ছিনতাইয়ের ভয়ে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কবর জিয়ারতে এলে তারা বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পুলিশের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বহিরাগত লোকজন গ্রুপ আকারে প্রতিদিন রাত ৭-৮টার দিকে এখানে এসে মাদকের আড্ডা বসায়। সারা রাত চলতে থাকে এমন আড্ডা। রমরমা জুয়া খেলাও চলে এ পবিত্র স্থানে। এমনকি মাঝে মাঝে নারী নিয়েও তাদের আসতে দেখেন তিনি। নির্জন এ জায়গায় প্রতিনিয়তই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কবরস্থানে এমন মাদকের আড্ডার ব্যাপারটি দুঃখজনক জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কবরস্থান রক্ষা করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে দুদিনের মধ্যেই মাদকমুক্ত করতে পারে এ স্থানটি।
তিনি বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই বহিরাগতরা সেখানে মাদকের আস্তানা গেড়েছে। কর্তৃপক্ষ কবরের নিরাপত্তাটুকুও দিতে পারছে না বলে তার অভিযোগ। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেন তিনি। প্রশাসনের উচিত এ জায়গা মাদকমুক্ত করা।
কবরস্থান নিকটবর্তী চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক এমরান হোসেন বলেন, আমাদের কাছে মাদকসেবন ও জুয়ার আসর সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আসেনি। সেজন্য আমরা এ সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী বলেন, কবরস্থানে এমন অপকর্ম সম্পর্কে আমরা জানতাম না। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরপর ছিনতায়ের ঘটনা ঘটায় আমরা সব স্থান নিয়ে সচেতন আছি এবং সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। আমরা গতকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় সতর্কতা জারি ও পুলিশ মোতায়েন করেছি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় পর্যাপ্ত লাইট, সিসি ক্যামেরা ও পুলিশ মোতায়েনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।









