বাংলা নববর্ষের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ না বুঝে এর ওপর নানা মত চাপানোর চেষ্টা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা সংস্কৃতির ভেতরে নানা ধারার মিলন ও বহুত্ববাদ রয়েছে। বিষয়টি না বুঝেই কেউ কেউ নববর্ষের গায়ে নিজেদের মত চাপিয়ে দিতে চান। তিনি বলেন, নববর্ষের ইতিহাসের ভেতরেই বাংলাদেশের সংস্কৃতির ভিত্তি রয়েছে।
তিনি জানান, মোগল আমলে এ সনের প্রচলন হয়। তখন হিজরি সাল থেকে সংখ্যা নেয়া হয় এবং কৃষকের ফসল ও হালখাতার সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়েই বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, নববর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। এ উৎসব সম্মিলিত বন্ধনের একটি বড় উদাহরণ।
তিনি বলেন, দেশকে নিজের শক্তিতে এগিয়ে নিতে হলে নিজেদের চিন্তা ও সংস্কৃতিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাব যে ধারাবাহিকভাবে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আয়োজন করছে, তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
সকাল থেকেই বর্ণাঢ্য আয়োজনে ক্লাবে নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়। সেখানে পুতুলনাচ, বাউল গানসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অতিথি ও সদস্যদের জন্য খই, মুড়ি-মুড়কি, গুড়ের পায়েস, হাওয়াই মিঠাই ও পান্তা-ইলিশের ব্যবস্থা করা হয়।
অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বক্তব্য শেষে মন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।










