ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে সশরীরে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং দায়িত্ব পালনরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণের অভিযোগে তাকে তলব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ঘটনার লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে। গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ জানুয়ারি বিকালে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় রুমিন ফারহানা প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন লোক নিয়ে একটি নির্বাচনী জনসভা করেন। সেখানে বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ ও মাইক ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিলে রুমিন ফারহানা তার ওপর চড়াও হন এবং তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দেয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রুমিন ফারহানা অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন, ‘আমি যদি না বলি এখান থেকে বাইরে যেতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙ্গুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে শুনব না।’ এ সময় তার সঙ্গে থাকা কর্মীরাও মারমুখী আচরণ শুরু করেন এবং ‘মব’ বা গণজমায়েত সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে সরাসরি বাধা দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার স্বার্থে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। এটি নির্বাচনী আচরণবিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।










