যশোরে তাপমাত্রা কমে আসায় শীত জেঁকে বসেছে। ফলে শীতের পোশাকের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। ভিড় জমেছে পুরনো কাপড়ের বড় মার্কেট শহরের জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে। যা নিক্সন মার্কেট নামেও পরিচিত। এছাড়া অভিজাত দোকানগুলোতেও শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে।
শীতের শুরুতেই বেচাকেনা ভালো হওয়ায় খুশি কালেক্টরেট মার্কেট ও মুজিব সড়কের ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতে কাপড় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া ও রুহুল তফাদার জানান, এক সপ্তাহ আগ থেকে শীত বেড়েছে। এতে শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে ভালো। গত তিন-চারদিনে শীত আরো বেড়েছে। এ কারণে জ্যাকেট, সোয়েটার, কম্বলসহ বিভিন্ন কাপড়ের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। নভেম্বরে যা বিক্রি হয়নি, গত তিন-চারদিনেই তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। পুরনো গরম কাপড় এসব ভাসমান দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৩০-১০০০ টাকা দামে।
শীত যত বাড়বে বেচাকেনা তত জমজমাট হবে বলে জানিয়েছেন শহরের কালেক্টরেট মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। এ বছর গরম কাপড়ের দাম কিছুটা বাড়ায় ক্ষোভ রয়েছে ক্রেতাদের মাঝেও। মার্কেটটিতে গোলগলা ও হাই গলার গেঞ্জি, হুডি, সোয়েটার, মাফলার, জ্যাকেট, ব্লেজার, কাটিগানসহ অন্যান্য গরম পোশাক ১-৬ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। শিশুদের পোশাক ১ হাজার ৫০০-২০০০ টাকা, জ্যাকেট ৩-৬ হাজার টাকা এবং ব্লেজার ২-৭ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দরদাম করেই কিনছেন ক্রেতারা। অনেকে তাদের পছন্দের পোশাক পেয়েও যাচ্ছেন।
ক্যালেক্টরেট মার্কেটের তুহিন গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী তুহিন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, জেলায় এ বছর শীত কিছুটা দেরিতে পড়েছে। শীত কেন্দ্র করে ক্রেতাদের নজর কাড়তে বিভিন্ন ধরনের গরম কাপড় দিয়ে দোকানগুলো সাজানো হয়েছে। শীত কম থাকায় বেচাকেনা কম হচ্ছিল। এ নিয়ে দুশ্চিন্তাও হচ্ছিল। তবে হঠাৎ করে শীত বাড়ায় বেচাকেনাও বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কাপড় বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বাড়তি দামে। তবে শীতের তীব্রতা যদি না বাড়ে অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির পর প্রাচীর নির্মাণ করেছে জেলা পরিষদ। চলতি বছরের মে মাসে মার্কেটের সব দোকান উচ্ছেদ করে সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়। গত মাসে জেলা পরিষদের মৌখিক আদেশে ৭৬টি দোকান নতুন করে নির্মাণ হয়েছে। তিন-চারদিন হলো মার্কেটে এলোমেলোভাবে পোশাক বিক্রি করছি। শীত মৌসুমে ভালো ব্যবসা করতে না পারলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।’










