মিয়ানমার থেকে দেশে রোহিঙ্গা ঢল শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের আবাসনের জন্য বাঁশের তৈরি ঘরের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। চাহিদা মেটাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম কিংবা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কক্সবাজারে বাঁশের সরবরাহ বাড়ছে। এছাড়া বনাঞ্চল ধ্বংস, জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবাসন তৈরি, জমি দখলসহ নানা কারণে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বাঁশবাগান। ২০০৫ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও এবং বেসরকারি সংস্থা আইএনবিআরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বাঁশবাগানের আয়তন ৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর উল্লেখ করা হয়। ২০১৬-১৭ সালে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) এক জরিপে দেশে বাঁশবাগানের পরিমাণ পাওয়া যায় পাঁচ লাখ হেক্টর। অর্থাৎ দুই সংস্থার তথ্যে এক যুগে দেশে বাঁশবাগান কমেছে ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। এরপর গত কয়েক বছরে এটি আরো কমেছে।
গবেষকরা বলছেন, দেশে বাঁশের চাহিদা প্রচুর। কিন্তু চলমান সংকট, পুরনো বাঁশবাগান নষ্ট হয়ে যাওয়া, আবাসনের জমির প্রয়োজনে নির্বিচারে বাঁশ কেটে ফেলাসহ বিভিন্ন কারণে সংকটাপন্ন হয়ে আসছে বাঁশের ভবিষ্যৎ। বিএফআরআইয়ের গবেষকরা বলছেন, উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাঁশের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
বিএফআরআইয়ের সিলভিকালচার জেনেটিক্স বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (প্রশাসন) ড. মো. মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগে বাঁশঝাড় ব্যাপক পরিসরে ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের আগমন, আবাসন তৈরি, বাঁশঝাড়ে ফুল চলে আসার কারণে ক্রমেই বাগান কমে এসেছে।’
এফএও এবং আইএনবিআরের ২০০৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বাঁশ বন এলাকার আয়তন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর, যা বন এলাকার মধ্যে প্রায় ৯ দশমিক ৫ ভাগ। বাঁশবাগানের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বাগানোর আয়তন ৭ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। রোপণ করা বাগানের আয়তন এক লাখ একর।
অন্যদিকে বিএফআরআইয়ের সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালের দিকে করা জরিপে দেশে বাঁশবাগানের আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ হেক্টর। যার মধ্যে গ্রামীণ এলাকার তিন লাখ হেক্টর এবং প্রাকৃতিক বন প্রায় দুই লাখ হেক্টর। অর্থাৎ প্রায় এক যুগের ব্যবধানে করা পৃথক জরিপের তথ্যে দেশে বাঁশবাগান কমেছে ৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর।
বিএফআরআইর সিলভিকালচার জেনেটিক্স বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ড. ওয়াহিদা পারভীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে প্রাকৃতিক প্রজাতির বাঁশের উৎপাদন বেশ কম। যার কারণে ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা উচ্চফলনশীল বাঁশ নিয়ে গবেষণা করেছি।’










