বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর বেলতলা খেয়াঘাটে যাত্রী ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন এ খেয়াঘাট দিয়ে কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত করে। এসব যাত্রীর কাছ থেকে প্রতিনিয়তই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন ইজারাদার। বাড়তি এ ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলেই লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে। ফলে বরিশাল নগরের সঙ্গে চরমোনাই ইউনিয়নের সংযোগে থাকা বেলতলা খেয়াঘাট এখন জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বরিশাল জেলা পরিষদের কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পেশিশক্তির প্রভাবে এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করছেন ইজারাদার। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেখানে জেলা পরিষদের নির্ধারিত খেয়া পারাপারের ভাড়ার তালিকা টানানোর কথা থাকলেও তা কখনই চোখে পড়েনি। পারাপারে নির্ধারিত চার্ট ইজারাদারের নিজ দায়িত্বে লাগানোর কথা। কিন্তু বেলতলা খেয়াঘাটে ইজারাদার নির্ধারিত চার্ট না লাগানোয় চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ জিয়াউল করীমের পক্ষ থেকে অস্থায়ীভাবে একটি রেট চার্ট লাগানো হয়। তবে ওই চার্টের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেন ঘাট ইজারাদার। চার্টের নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে যাত্রীদের লাঞ্ছিত হতে হয়। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতি যাত্রীর ভাড়া ৪ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ৫ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। চালকসহ সাইকেলের ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারিত হলেও ১০ টাকা নেয়া হচ্ছে। চালকসহ মোটরসাইকেলের ভাড়া ১২ টাকার পরিবর্তে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। রিকশা-ভ্যান-ঠেলাগাড়ি ১০ টাকার পরিবর্তে ৪০-৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। গরু-মহিষ প্রতিটি ১২ টাকার পরিবর্তে ৬০-১০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মালপত্র থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া আদায় করা হয়।
এ বিষয়ে বেলতলা খেয়াঘাট ইজারাদার হীরা মাতুব্বরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত বছর যে ভাড়া নেয়া হয়েছে সে ভাড়াই নেয়া হচ্ছে। তার চেয়ে বেশি ভাড়া নেয়া হয় না। সেই ভাড়া জেলা পরিষদের নির্ধারিত ভাড়া কিনা জানাতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর আরো বেশি টাকা দিয়ে ডাক নেয়া হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়া নিলে টাকা উঠাব কী করে?
ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের ঘটনায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, আমরা ভাড়ার তালিকা দিয়ে সাইনবোর্ড দিয়ে দেব। তার পরও বেশি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।









