দেশের শিল্প খাতের জন্য প্রথম গ্রিড-ফর্মিং স্মার্ট স্ট্রিং ইনভার্টার ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম এনেছে চীনা বহুজাতিক কোম্পানি হুয়াওয়ে। এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্রিড-ফর্মিং প্রযুক্তি আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি বিশেষ প্রযুক্তি, যা সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পাশাপাশি গ্রিডের ভোল্টেজ ও ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। অনেকটা জেনারেটরের মতো এটি গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে।

ঢাকায় হুয়াওয়ে আয়োজিত ‘সবুজ ভবিষ্যৎকে ত্বরান্বিত করছে গ্রিড-ফর্মিং টেকনোলজি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে নতুন এ প্রযুক্তির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া ডিজিটাল পাওয়ার ডিপার্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইল ইউ, হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল পাওয়ার বিজনেসের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ওয়াং জুনফেং এবং হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মা বেন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ৫০০ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-ফর্মিং স্মার্ট স্ট্রিং ইনভার্টারের পাশাপাশি উন্নত ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) লুটেরা-৬২৮২-২এস/৪এস উন্মোচন করা হয়। উইল ইউয়ের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ওয়াং জুনফেং বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রবণতা নিয়ে উপস্থাপনা দেন এবং মা বেন সমাপনী বক্তব্য দেন।

উইল ইউ বলেন, ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমের সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সমন্বয় বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে। শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এখন আর যথেষ্ট নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রয়োজনের সময় নিশ্চিত করতে ইন্টেলিজেন্ট এনার্জি স্টোরেজ ও গ্রিড-ফর্মিং প্রযুক্তি প্রয়োজন। উদ্ভাবনী সোলার-প্লাস-স্টোরেজ সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে আরো স্মার্ট, স্থিতিস্থাপক ও টেকসই বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করতে হুয়াওয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হুয়াওয়ে সোলার ইনভার্টার সল্যুশন ব্যবহারকারী প্যারামাউন্ট গ্রুপের টেকনিক্যাল বিভাগের প্রধান মাসুদ রানা অনুষ্ঠানে প্যারামাউন্টের ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। হুয়াওয়ের ইনভার্টার বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, লালমনিরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মতো বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্যারামাউন্টের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব এলাকা অত্যন্ত ধুলোময় হওয়ায় ইনভার্টারের উচ্চমাত্রার আইপি (ইনগ্রেস প্রোটেকশন) সুরক্ষা থাকা জরুরি ছিল। তাই ইনভার্টারের আইপি রেটিংকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, হুয়াওয়ের ইনভার্টারের আইপি রেটিং ৬৬। এ ছাড়া এসব ইনভার্টারের ত্রুটির হারও খুব কম। কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে হুয়াওয়ে দ্রুত তা সমাধান করে দেয়।