এক মাস আগেও ভালো মানের কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকায় পাওয়া যেত। মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে কাঁচামরিচের দাম। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী সবজির দামও। বেশির ভাগের দাম ১০০ টাকার আশপাশে। একই সঙ্গে পেঁয়াজ ও ফার্মের মুরগির ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও নতুন বাজার সরজমিনে এ তথ্য মিলেছে।

দোকানিরা বলছেন, মূলত টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে দেশে টানা বৃষ্টি ও পূর্বাঞ্চলের বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমেছিল। তখন অন্যান্য সবজির সঙ্গে কাঁচামরিচের দামও বাড়ে। অন্যদিকে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পানিতে অনেক সবজিখেত ও মরিচখেত নষ্ট হয়েছে। ফলে সরবরাহশৃঙ্খলে টান পড়ায় আরো দাম বেড়েছে।

গতকাল রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করছিলেন মো. লিটন। তিনি এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচের দাম রাখছিলেন ৬০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি কেজির দাম ২৪০ টাকা।

দাম বাড়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মো. লিটন বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকেই ২০০ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই দাম বেড়েছে। এক মাস আগে যে পরিমাণ কাঁচামরিচ পাইকারি বাজারে আসত এখন তার চেয়ে কম আসছে।’ ভাটারা এলাকার ছোলমাইদে প্রতি পোয়া ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দৈনিক বাজারদরে জানানো হয়, গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশীয় কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১৮০-২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের হিসাবে গতকাল রাজধানীতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের খুচরা মূল্য ছিল ১৫০-২২০ টাকা। জুনের একই দিন দাম ছিল ৬০-১২০ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের এই দিনের তুলনায় চলতি বছর কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে ১০৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ৯০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া পটোল ৬০-৮০, প্রতি পিস চালকুমড়া ৬০-৭০, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০, লাউ প্রতি পিস ৭০-৮০, করলা ১০০-১২০, ঝিঙা ৮০, কাঁকরোল ৮০-১১০, কাঁচা পেঁপে ৩০-৫০, ঢেঁড়স ৮০, চিচিংগা ৮০-১০০, ধুন্দল ৭০-১০০, কচুর লতি ৭০-১০০, দেশী শসা ১২০-২০০ ও বরবটি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়।

এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৪০-১৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। বেড়েছে পেঁয়াজের দামও। খুচরা পর্যায়ে ৪৫-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে দেশী পেঁয়াজ। গত সপ্তাহে যা ছিল ৩৫-৪৫ টাকা। টিসিবির হিসাবে, গত সপ্তাহের তুলনায় খোলা সাদা আটার দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা কেজিতে ৫ টাকা বেশিতে বিক্রি হয়।

কারওয়ান বাজারের এক পেঁয়াজ বিক্রেতা জানান, গতকাল প্রতি পাল্লা (পাঁচ কেজি) পেঁয়াজ ২০০-২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহে এ দাম ছিল ১৮০-২২০ টাকা।

চলতি সপ্তাহে মাংসের দামে তেমন তারতম্য পাওয়া না গেলেও মাছের দামের ওঠানামা রয়েছে। গতকাল ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া সোনালি মুরগি কেজি ৩৩০-৩৬০ টাকা ও লেয়ারের কেজি ছিল ৩২০-৩৪০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হয় ৭৮০-৮৫০ টাকা।

বড় রুই ৪৫০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়। মাঝারি রুই ৪০০-৫০০ এবং ছোট রুই বিক্রি হয় ৩৫০-৩৮০ টাকায়। কাতল আকারভেদে ৩৫০-৪৮০, তেলাপিয়া ২০০-২৬০, শিং ৪২০-৫০০, পাবদা ৩২০-৪৫০, টেংরা ৬০০-৭৫০, পাঙাশ আকারভেদে ২২০-৩৫০, চাষের কৈ ২২০-৩০০, সিলভার কার্প ২০০-২৮০ ও চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের দাম বিষয়ে কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মাসুদ রানা নামের এক ক্রেতা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে এ অজুহাতে কাঁচামরিচের দাম ২০০-২৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার ওপরে বা তার আশপাশে। মাছ-ডিমের দামও বেশি। মানলাম, মরিচ-সবজি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। তাহলে মাছ-মাংসের দাম বেশি কেন? বর্ষার কারণে মুরগি কি ডিম দেয়া কমিয়ে দিয়েছে?’