দুটি উপশাখার মধ্যেও ন্যূনতম তিন কিলোমিটার দূরত্ব রাখতে হবে। পাশাপাশি নতুন অনুমোদিত শাখার অন্তত অর্ধেক গ্রামীণ এলাকায় স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিলাসবহুল কার্যালয়, অস্বাভাবিক ভাড়া এবং অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো ব্যয় নিরুৎসাহিত করে ব্যাংকের শাখা ও ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপনে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল এ-সংক্রান্ত গাইডলাইন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধান কার্যালয়, শাখা, উপশাখা, এসএমই সেন্টার, বুথ, বিজনেস হাব, সেলস সেন্টার, ডেটা সেন্টার, কল সেন্টার ও এয়ারপোর্ট লাউঞ্জসহ সব ধরনের ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যবসা কেন্দ্র পরিচালনা করলে তা অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গাইডলাইনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরের শাখা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, ঋণের মান, গ্রাহকসেবা, শাখা ব্যবস্থাপনা, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং অনিয়মের অভিযোগ পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়া হবে। নীতিগত অনুমোদনের পরও নির্দিষ্ট স্থানের জন্য পৃথক চূড়ান্ত অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে হবে।
নতুন গাইডলাইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, একই ব্যাংকের বিদ্যমান কোনো শাখা বা উপশাখার এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন শাখার অনুমোদন দেয়া হবে না। একই সঙ্গে একটি শহর শাখার বিপরীতে একটি গ্রামীণ শাখা স্থাপনের নীতি অনুসরণ করতে হবে। অনুমোদিত নতুন শাখার অন্তত ৫০ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই বছরে একই শহরে একাধিক শহর শাখা খোলাও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
এসএমই ও কৃষি শাখা বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশনের বাইরে ব্যাংকিং-সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় স্থাপন করতে হবে। এসব শাখা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করতে পারবে না। সংগৃহীত আমানতের অন্তত ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট এলাকার এসএমই ও কৃষি খাতে ঋণ বা বিনিয়োগ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
উপশাখার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনুমোদিত উপশাখার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সিটি করপোরেশন এলাকায়, ২৫ শতাংশ ‘ক’ শ্রেণীর পৌরসভায় এবং বাকি ৬০ শতাংশ অন্যান্য পৌরসভা ও গ্রামীণ এলাকায় স্থাপন করতে হবে। নিয়ন্ত্রণকারী শাখার এক কিলোমিটার এবং একই ব্যাংকের অন্য উপশাখার তিন কিলোমিটারের মধ্যে নতুন উপশাখা খোলা যাবে না। প্রতিটি উপশাখায় অন্তত তিনজন কর্মকর্তা থাকতে হবে। উপশাখা থেকে বৈদেশিক বাণিজ্যসংক্রান্ত সেবা দেয়া যাবে না এবং মূল শাখার তুলনায় অতিরিক্ত ফি বা কমিশনও আদায় করা যাবে না।
গাইডলাইনে আরো বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ডেটা সেন্টার, কল সেন্টার, ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার, কেন্দ্রীয় গুদাম, বিজনেস হাব, সেলস সেন্টার ও এয়ারপোর্ট লাউঞ্জের মতো অ-লেনদেনভিত্তিক কেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করে এসব কেন্দ্রে লেনদেন পরিচালনা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।










