ক্যাম্পাসের নির্মাণসামগ্রীবাহী ট্রাকচাপায় নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মেধাবী শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেলের মাকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক ও পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদসামগ্রী উপহার দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় হিমেলের নানাবাড়ি নাটোরের কাপুড়িয়াপট্টিতে হিমেলের মা মনিরা আক্তারের হাতে এসব উপহার তুলে দেয়া হয়। চেক ও ঈদসামগ্রী গ্রহণের সময় হিমেলের মা ছাড়াও তার নানা খন্দকার মনির উদ্দিন আহমেদ, মামা খন্দকার আবু বক্কর মুন্নাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর, পরিবহন প্রশাসক মোকসিদুল হক,
সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। চেক ও ঈদসামগ্রী হস্তান্তর শেষে নিহত হিমেলের কবর জিয়ারত করেন তারা।
গত ১ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনের রাস্তায় ট্রাকচাপায় মাহমুদ হাবিব হিমেল নিহত হন। হিমেল রাবির গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় আহত হন রায়হান প্রামাণিক রিমেল নামের আরেক শিক্ষার্থী। তার চিকিৎসারও সার্বিক তত্ত্বাবধান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আহত রিমেলের এক বছরের পড়াশোনার জন্য তাকেও ১ লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রিমেলের হাতে চেকটি হস্তান্তর করা হয়।
এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম,
সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমরা হিমেলকে ফিরে পাব না। কিন্তু তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের যথাসম্ভব সাহায্যের চেষ্টা করতে তো সমস্যা নেই। এটা আমাদের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সামান্য কিছু ঈদসামগ্রী পাঠিয়েছিলাম, ৫ লাখ টাকার একটি চেকও দেয়া হয়েছে। আমি যেভাবে পারছি হিমেলের মায়ের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আহত ছাত্র রায়হান প্রামাণিক রিমেলকেও আর্থিকভাবে সহায়তা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হিমেলের মাকে সহায়তা করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও আবেদন করেছি। আশা করছি, সেখান থেকেও ভালো একটা ফান্ড গঠন করে হিমেলের মাকে দিতে পারব।










