প্রথমবারের মতো রিক্রুটিং এজেন্টদের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সিআইপি) স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য রিক্রুটিং এজেন্টদের এ সম্মাননা দেয়া হবে। তবে সিআইপি নির্বাচিত হতে হলে বছরে ন্যূনতম ৫০০ জনকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে এজেন্সি মালিকদের। সিআইপি নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর অনিবাসী বাংলাদেশী এবং রিক্রুটিং এজেন্টদের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনিবাসী বাংলাদেশী এবং রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এটি ‘বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশী ও রিক্রুটিং এজেন্ট) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৯’ নামে অভিহিত হবে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ জন রিক্রুটিং এজেন্টকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য অবদানকারী হিসেবে সিআইপি ঘোষণা করা হবে। আর সিআইপি হিসেবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বছরের জন্য পূর্ববর্তী অর্থবছরে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বিবেচনা করা হবে। আবেদনের জন্য বছরে ন্যূনতম ৫০০ জনকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে রিক্রুটিং এজেন্টদের। অন্যদিকে বিবেচ্য বছরের জন্য পূর্ববর্তী অর্থবছরে রিক্রুটিং এজেন্ট কর্তৃক সার্ভিস চার্জ বাবদ প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ বিবেচনায় নেয়া হবে। এছাড়া রিক্রুটিং এজেন্টের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণিত অভিযোগ না থাকা এবং সংশ্লিষ্ট আইন বা বিধিমালার অধীন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়টিও সিআইপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ১ হাজার ১৭৯টি। এজেন্সিগুলোকে উৎসাহ দিয়ে সিআইপি নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিআইপি নির্বাচনের নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করতে ৫ আগস্ট একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

উল্লেখ্য, এতদিন জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কেবল অনিবাসী বাংলাদেশীদের সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত করত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত বছর ৩৫ অনাবাসী বাংলাদেশীকে সিআইপি নির্বাচন করা হয়। এদের মধ্যে ২৯ জন বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী শাখায় এবং ছয়জন বিদেশে বাংলাদেশী পণ্য আমদানির জন্য এ সম্মাননা পান। ২০১৬ সালের জন্য তারা সিআইপি নির্বাচিত হন। এদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৩ জন, ওমান থেকে ছয়জন, যুক্তরাজ্য ও কাতার থেকে তিনজন করে এবং অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর ও হংকং থেকে একজন করে সর্বাধিক বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী অনাবাসী বাংলাদেশী সিআইপি নির্বাচিত হন।