কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় ভেসে উঠেছে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু। ‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’খ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি এক মাস ১৫ দিন কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে ছিল। আজ থেকে সেতুতে পর্যটক ও স্থানীয়দের প্রবেশ উন্মুক্ত করবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স সেতুটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বণিক বার্তাকে জানান, বুধবার থেকে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে থাকায় ঝুলন্ত সেতুর পানিও নামতে শুরু করেছে। গতকাল সেতুর ওপর থেকে সম্পূর্ণ পানি নেমে গেছে। বুধবার থেকে সেতুতে রঙ ও সংস্কারকাজ চলছে। আজ থেকে সেতুটি পর্যটক ও স্থানীয়দের প্রবেশে উন্মুক্ত করে দেয়ার পাশাপাশি টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ার কারণে ঝুলন্ত সেতুটি ডুবে যায়। ওই সময় সেতুতে প্রবেশের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি সেতুতে স্থানীয় ও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছিল পর্যটন করপোরেশন। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে হ্রদের পানি কমতে শুরু করায় বুধবার থেকে ফের ভেসে উঠতে শুরু করে ঝুলন্ত সেতুটি।

কাপ্তাই হ্রদের পানি পরিমাপ করে থাকে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানি ছিল ১০৫ দশমিক ৫০ মিনস সি লেভেল (এমএসএল)। রুলকার্ড অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে স্বাভাবিকভাবে পানি থাকার কথা ছিল ১০৭ দশমিক ৭০ এমএসএল। সে হিসাবে রুলকার্ডের স্বাভাবিক স্কেল থেকে ২ এমএসএল পানি কম রয়েছে হ্রদে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ঝুলন্ত সেতুটি ডুবে যাওয়ার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাণ ছিল ১০৫ দশমিক ৭০ এমএসএল।

কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারণ সক্ষমতা ১০৯ এমএসএল থাকলেও হ্রদের পানি ১০৫ এমএসএলের অধিক হলেই ডুবে যায় ঝুলন্ত সেতু। কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২০ এমএসএল জলসীমার মধ্যে বা নিচে কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি নেই। কিন্তু এ জলসীমার নিচেই নির্মিত হয়েছে সেতুটি। পর্যটনসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হ্রদে পানি ধারণ সক্ষমতার রুলকার্ড না মেনে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়লেই ডুবে যায় দেশ-বিদেশে ‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতুটি।