মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে রাজশাহী বিভাগে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। আজ বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রাজশাহীতে চলছে গণপরিবহন ধর্মঘট। অবশ্য বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মহাসড়কের বিশৃঙ্খলা নয়, আগামী ৩ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করতেই পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ, আন্তঃজেলা
ও দূরপাল্লা রুটে কোনো বাস রাজশাহী ছেড়ে যায়নি। রাস্তায় গাড়ি না চলায় বিপাকে
পড়েছেন যাত্রীরা। বাস বন্ধ থাকায় চাপ বেড়েছে ট্রেনে। ফলে সেখানে টিকেট না পেয়ে
অনেকেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছেন। অটোরিকশা-ভটভটিতে করেও
গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।
তবে গণপরিবহন না চললেও বিভাগের বিভিন্ন জেলা
থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজশাহী আসতে শুরু করেছেন। ধর্মঘট শুরুর আগে বুধবার রাতেই
অনেকে সমাবেশস্থল নগরীর মাদ্রাসা মাঠের তাঁবুতে চলে এসেছেন। রান্নাবান্না ও
খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করে সেখানেই অবস্থান নিয়েছেন তারা। সমাবেশ উপলক্ষে নগরীর নিরাপত্তায়
পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে আরএমপি।
বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, দেশের অন্যান্য বিভাগের
মতো বিএনপির সমাবেশের আগে এখানেও ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। কিন্তু ধর্মঘট ডেকে বিএনপির
সমাবেশে লোকসমাগম ঠেকানো যাবে না। এরই মধ্যে অনেক নেতাকর্মীই রাজশাহী পৌঁছে
গেছেন।
তবে ধর্মঘটের সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের সংশ্লিষ্টতার
কথা অস্বীকার করেছেন পরিবহন নেতারা। তারা বলছেন, ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি আগেই দেয়া
হয়েছে। গত শনিবার এ নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ
প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাতেও কোনো আশ্বাস না পেয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাফকাত
মঞ্জুর বলেন, ১০ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার
ভোর থেকে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বিভাগের আট জেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘট চলছে। দাবি
আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
এদিকে বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করলে
তাদের কিছু বলার নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি
সমাবেশের নামে আবারও নাশকতা ঘটাতে পারে। এজন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে
বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।









