বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্প খাতের সুরক্ষার জন্য এ পণ্য আমদানিতে আরোপিত শুল্ক যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ ও ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। যা এসব চুক্তির অংশীদার দেশগুলার তুলনায় অনেক বেশি। কাজেই বাংলাদেশকে আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি দেশের বাজার উন্মুক্ত করতে হবে।

সোমবার প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) সম্মেলন কক্ষে ‘‌থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক’ আয়োজিত এক সেমিনারে কৃষি ও শিল্প খাত সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন বক্তারা।

এ সময় তারা বলেন, আগামী বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশে (এলডিসি) উন্নীত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরে দেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। তার মধ্যে একটি কৃষি ও মৎস্য খাতের বাণিজ্য। সেখানে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে গেলে তাদের স্বাভাবিক প্রত্যাশা অনুযায়ী কৃষি ও মৎসসহ অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ব্যাপক ছাড় দিতে হবে।

বক্তারা আলো বলেন, ‌বাংলাদেশে কৃষি ও মৎস্য খাতের গুরুত্বটা তুলনামূলক কম দেয়া হয়। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কৃষি ভর্তুকি কাট (ছাটাঁই) করা হয়না। একই অবস্থা মৎস্য খাতেও। এ খাতে তুলনামূলক কম ভুর্তকি দেয়া হয়েছে। অথচ মৎস্যজীবীদের ভুতুর্কি সবচেয়ে বেশি দরকার। বিদেশী বাজারের জন্য মৎস্যখাতে এফটিএ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেখা যায় যেসব দেশ মৎস্যখাতে অনেক উপরে, তারা বাংলাদেশের মত ছোট দেশগুলোকে উপরে উঠতে দিতে চায় না।

টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বিলম্বিত করার পক্ষে অভিমত দেন বক্তারা। তারা মনে করেন, এফটিএতে অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য শেষ পর্যন্ত ক্ষতির কারণ হবে।

সেমিনারে থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের জ্যোষ্ঠ গবেষক সানি রেড স্মিথ, রঞ্জা সেনগুপ্ত, অ্যাডভোকেট তাসলিমা জাহান, সাংবাদিক আসজাদুল কিবরিয়াসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।