বাংলাদেশের যে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান লোকজীবনের সঙ্গে মিশে আছে, এর মধ্যে বাঁশ ও বেত অন্যতম। লোকজীবনের খুব কম দিকই আছে যেখানে বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী ব্যবহার হয় না। শিল্পটি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনাচরণ ও অনুভূতির প্রতীকও বটে। গাইবান্ধায় বিভিন্ন পেশার পাশাপাশি রয়েছে বাঁশ ও বেত শিল্প। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে শিল্পটি পিছিয়ে পড়ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিল্পকে লাভজনক করা সম্ভব বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।

গাইবান্ধা উদ্যোক্তা ফোরামের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বাবু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাঁশের তৈরি পণ্যের জনপ্রিয়তা থাকলেও সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং লাভজনক করতে হলে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।’

গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবীর তনু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি অনুদান দিলে এ শিল্পের বিকাশ ঘটবে। সেই সঙ্গে ব্যাংকের মাধ্যমে যদি ঋণ দেয়া হয় তাহলে বিপুলসংখ্যক লোক এ পেশায় যুক্ত থাকবে।’

সরজমিন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রিফাইতপুর পাটনীপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের ১৪টি পরিবারে ৬০-৬৫ কারিগর এ পেশার সঙ্গে জড়িত। নকুল শ্রীচরণ দাস ও কণিকা রানীসহ কয়েকজন বলেন, আমরা আগে থেকেই বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করছি। মূলত এ কাজের কোনো প্রশিক্ষণ আমাদের নেই। বাপ-দাদার কাছ থেকেই এ কাজ শিখেছি। তাই বংশগতভাবে এ পেশায় আছি। তবে বাঁশের দাম বাড়লেও তুলনামূলক বাঁশের তৈরি পণ্যের দাম বাড়েনি। যার ফলে আমরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। সরকারি সহায়তা পেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রবীন্দ্র নাথ রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিল্পটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাজের মান উন্নত করার জন্য এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা চাইলে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।’