ঈদুল আজহা কোরবানিকে কেন্দ্র করে ভাল নেই বগুড়ার ৪৩ হাজার খামারিরা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশু বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। লকডাউনের কারণে সরকারি, বেসরকারি ও খামারিরা অনলাইনে ফেসবুক পেইজ খুলে পশু বিক্রিতে আগ্রহ বাড়ালেও ভাল সাড়া পাচ্ছে না তারা।
জেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, ফেসবুক পেইজ থেকে গত ১৫ দিনে প্রায় ৯ হাজারের মত কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও অনলাইনে পশু কেনাকাটায় রয়েছে নানা সমস্যা।
বগুড়া জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সুত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি বছর মোট খামারি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার। এসব খামারিতে কোরবানিযোগ্য পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ) প্রস্তুত হয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার আর এর বিপরীতে এবার প্রাথমিকভাবে চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার। গত বছর ৩ লাখ ১২ হাজার কোরবানি হয়েছিল। আর কোরবানির পশু প্রস্তুত হয়েছিল ৩ লাখ ৮৬ হাজার। চলতি বছর অতিরিক্ত কোরবানির পশু থাকবে ৪৭ হাজার।
জেলায় প্রতিবছর অতিরিক্ত কোরবানির পশু প্রস্তুত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবছরও প্রস্তুত হয়েছে। অতিরিক্ত পশুগুলো ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রাম, নারায়নগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জেলায় গরুর ব্যাপারীরা কেনাবেচা করে।
করোনায় স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও প্রাণী সম্পদ বিভাগ আসছে ঈদুল আযহায় কোরবানি পশুর বিক্রি করতে দুটি ফেসবুক পেজ খুলেছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসন থেকে খোলা হয়েছে ‘অনলাইন কোরবানির পশুর হাট, বগুড়া’ আর জেলার প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে খোলা হয়েছে ‘বগুড়া পশুর হাট’। দুটি গরুর হাটের পেইজই বাংলায় লেখা রয়েছে।
করোনাকালে কোরবানির পশু কিনতে হাটে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করতে ফেসবুক ভিত্তিক পেইজ করা হলেও সেখানে ক্রেতাদের তেমন ভাল সাড়া নেই। অনলাইনে মোবাইল নাম্বার দিলেও কেউ ডিজিট ভুল করে আছে, কেউ ফোন ধরে না। ক্রেতার স্থান থেকে বিক্রেতা বা খামারির দুরত্ব বেশি হওয়ার কারণে অনেকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এর সঙ্গে লকডাউন শিথিল হওয়ার কারণে ক্রেতারা অনলাইনের চেয়ে হাটে গিয়েই এখন পশু ক্রয় করছে।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বগুড়ায় এবার কোরবানির পশুর প্রয়োজন ৩ লাখ ২৬ হাজার। সেখানে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার। সেই হিসেব এবার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে ৪৭ হাজার। গত ঈদে এ জেলায় প্রায় ৩ লাখ ১২ হাজার পশু জবাই করা হয়। আমরা দুটি অনলাইন পেইজ খুলেছি। ফেসবুকে পেইজ খুলে গরু ছবি দিয়ে অনলাইন হাট বসানো হয়েছে। তবে সেখানে ভাল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। পেইজে আপলোড করা পশু বিক্রি হয়েছে কিনা তা সহজে বোঝা যায় না।
দেখা গেছে কোন খামারির পশু বিক্রি হয়ে গেছে তারপরও ছবি শো করছে। আবার কোন খামারি পশু বা কোরবানির গরু বিক্রি হলে সেটা জানিয়ে দিয়েছে। অনেকেই জানায়নি। যারা জানিয়েছেন তাদের হিসাব নিয়ে গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার বা তার কিছু বেশি পশু বিক্রি হয়েছে।










