ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। গতকাল নেপালের ললিতপুরের আনফা কমপ্লেক্সে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ১-১ গোলে। এরপর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

৩৬ মিনিটে আসাদুল মোল্লার গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। ৭৫ মিনিটে ভারতের হয়ে গোল পরিশোধ করে সমতা আনেন রিকি মিতেই। এরপর টাইব্রেকারে বাংলাদেশ টানা চার শটে গোল করলেও ভারতীয় যুবারা দুটি শটে গোল করতে ব্যর্থ হয়। 

এটি সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে বাংলাদেশের চতুর্থ ফাইনাল। ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২২ সালে তিন ফাইনালে হেরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। প্রথমবার নেপাল, পরে দুবার ভারতের কাছে হেরেছে তারা। এবার ফাইনালে সামনে নেপাল। নেপাল রোববার প্রথম সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। 

এর আগে গ্রুপ পর্বে নেপালের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এবার ফাইনালে কি সেই হারের প্রতিশোধ নিতে পারবে মারুফুল হকের দল? বুধবার দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ফাইনাল। 

ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় মারুফুল বললেন, ‘মনের তাগিদ থেকেই পারফর্ম করেছে দল।’ অবশ্য প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পরও ভারতকে কোণঠাসা করতে না পারার হতাশা আড়াল করেননি তিনি।

গতকাল জয় শেষে বাংলাদেশ দলের কোচ মারুফুল হক বলেন, ‘এখানে আসার আগে আমাদের লক্ষ্য ছিল ফাইনাল, যদিও আমরা গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে হেরে গিয়েছিলাম, তার পরও খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি, ছেলেদেরও ভালো করার ইচ্ছা ছিল। যেহেতু আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, সেহেতু তাদের একটা ইচ্ছা ছিল (জেতার), তাদের মনের ভেতর যে তাড়না ছিল, সে অনুযায়ী তারা পারফর্ম করেছে।’

ফাইনালে স্বাগতিকদের সমীহ করলেও নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে দারুণ আশাবাদী মারুফুল। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতে চাই। ভারত সবসময় আমাদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ। ছেলেরা ভালো খেলেছে। ভারত পরিণত ফুটবল খেলেছে। কেননা তারা অনেক সুযোগ তৈরি করেছে। আমি মনে করি, ফাইনালে অবশ্যই নেপাল বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ। অনেক শক্তিশালী ও মেধাবী খেলোয়াড় আছে ওদের এ দলে। তার পরও আমি আশাবাদী, ফাইনালে ভালো ম্যাচ হবে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ভালো সুযোগ আছে আমাদের।’