জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ত্রৈমাসিক সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অতিরিক্ত আইজি, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটার আগেই সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের ও জনগণের কল্যাণে পুলিশ কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সম্মেলনে এপ্রিল-জুন ২০২৬ কোয়ার্টারে দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ সময় ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলা, মুলতবি গ্রেফতারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচারের ফলাফল এবং সাজার হার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ আক্রান্তের মামলাগুলোতে তদারকি বাড়ানো, মুলতবি মামলা কমানো এবং সাজার হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নিখোঁজ-সংক্রান্ত জিডিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতেও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়।

সভায় পিবিআই প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. মোস্তফা কামাল, সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, এটিইউ প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. রেজাউল করিম, র‍্যাব মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ ও এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) সরদার নুরুল আমিন নিজ নিজ ইউনিটের কার্যক্রম নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এদিকে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ পালনকালে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২৬ পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ দেয়া হয়। আইজিপি তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।