গতকাল আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান। খবর বাসস।
অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরো মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদারে কাজ করছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। অন্যদিকে অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
এদিকে অ্যামচেমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আনতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। তারা বলেন, বিগত বছরগুলোতে সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে আরো ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আনতে সহায়ক ভূমিকা পালনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। এজন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও সরকারের অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করেন অ্যামচেম নেতারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।’ নীতির স্পষ্টতা, ধারাবাহিকতা, দক্ষ প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন অ্যামচেম নেতারা। চলতি অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের আওতায় বিনিয়োগ সহজতর করতে নেয়া পদক্ষেপে স্বাগত জানান তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, কমপ্লায়েন্সের চাপ কমানো, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করাসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ অ্যামচেম প্রতিনিধি দল স্বাগত জানায়। পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয় অ্যামচেম। সংগঠনটি মনে করে, এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে।
সংগঠনটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির কাঠামো দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে পারে। অ্যামচেম কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলায় গুরুত্ব দেয়। বিষয়টি শুধু বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আওতায় প্রযুক্তি, এআই ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের মতো খাতগুলোতে গুরুত্ব দেয়া হবে। পাশাপাশি ক্লাউড প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনবিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের মতো ক্ষেত্রগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আগামী দিনের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অ্যামচেম জানায়, এখন গৃহীত সংস্কারগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করার দিকে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। এজন্য কর ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ এবং আরো শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ লক্ষ্যে অ্যামচেম একটি ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজরি ফোরাম বা টাস্কফোর্স এবং একটি পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবিত প্লাটফর্ম দুটিতে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ, বিদেশী বিনিয়োগকারী ও অ্যামচেমের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এগুলো ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা, সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে কাজ করবে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল অ্যামচেম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশী বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে অ্যামচেমের সঙ্গে সহযোগিতা আরো গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
অ্যামচেম সভাপতি ছাড়াও প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ; অ্যামচেমের কোষাধ্যক্ষ ও ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ; অ্যামচেমের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া; অ্যামচেমের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ন্যাটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল আল মামুন; অ্যামচেমের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অ্যাভেরি ডেনিসনের বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন; অ্যামচেমের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শপআপ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহিম চৌধুরী এবং অ্যামচেমের নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ।










